যশোরে টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে ১৬২২ হেক্টর ফসলি জমি
যশোরে টানা বৃষ্টিতে পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে ফসলি জমি- লোকসমাজ

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ : কয়েক দিনের টানা ভারি বৃষ্টিতে যশোরের বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ১ হাজার ৬২২ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রোপা আমনের বীজতলা। এছাড়া আউশ ধান, শাক-সবজি, মরিচ ও পাটের ক্ষেতও পানির নিচে চলে গেছে। এতে চলতি মৌসুমে আমনের চারা সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, পানিতে তলিয়ে যাওয়া জমির মধ্যে রয়েছে ৩১০ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা, ৬২২ হেক্টর আউশ ধান, ৪৫৫ হেক্টর শাক-সবজি, ৪৫ হেক্টর মরিচ এবং ১৩২ হেক্টর পাট। দ্রুত পানি না নামলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা কৃষি বিভাগের।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত। এছাড়া বাঘারপাড়া ও সদর উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলেও বীজতলা ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে।
বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর গ্রামের কৃষক শামসুর রহমান বলেন, এক বিঘা জমিতে আমনের বীজতলা করেছিলেন। টানা বৃষ্টিতে তা পানির নিচে চলে গেছে। দ্রুত পানি না নামলে নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হবে। এতে অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি রোপণ কার্যক্রমও পিছিয়ে যাবে।
একই গ্রামের কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন, শুধু আমনের বীজতলাই নয়, আউশ ধানের ক্ষেতও পানিতে ডুবে আছে। এমন পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন ব্যাহত

যশোরে টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে ১৬২২ হেক্টর ফসলি জমি
অতি বর্ষণে ক্ষতি হয়েছে সবজির বীজতলার- লোকসমাজ

হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানান তিনি।
সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের নোঙ্গরপুর এলাকার সবজি চাষি আশরাফ আলী জানান, দেড় বিঘা জমির সবজি ক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে। দুই-তিন দিনের মধ্যে পানি না নামলে গাছ পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই এলাকার কৃষক কায়েম সরদার বলেন, চলতি মৌসুমে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করলেও এখন সেই অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোশাররফ হোসেন বলেন, শুক্রবার থেকে যশোর অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির কারণে জেলার অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
তিনি জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৬ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ২৪ শতাংশ বীজতলা প্রস্তুত হলেও এর মধ্যে ৩১০ হেক্টর পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

যশোর বিমান বাহিনী পরিচালিত আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার সকাল থেকে চার ঘণ্টায় ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার ২৪ ঘণ্টায় ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়, যা চলতি মৌসুমের অন্যতম সর্বোচ্চ। আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

তবে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা কিছুটা আশাবাদী। তাদের মতে, অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুর এলাকায় নদী খননের ফলে আগের তুলনায় পানি দ্রুত সরে যাচ্ছে। নতুন করে ভারি বৃষ্টিপাত না হলে ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের একটি অংশ রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে। তবে আমনের বীজতলার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় বীজ, কারিগরি সহায়তা ও পুনর্বাসন কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি উঠেছে।