মাছ সবজি ডিমের দাম উর্ধ্বমুখী

0

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন, লোকসমাজ : বৈশাখের শেষেও বাজারে নদীর ইলিশ মাছের দাম উর্ধ্বমুখী, আগামী ১১ জুন শেষ হবে বঙ্গোপসাগরে ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা। এদিকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের সরবরাহও কমে এসেছে। অপরদিকে বাজারে ভালোমানের সবজির কেজি ৮০ টাকা। বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে খামারের মুরগি ও ডিম। রোববার যশোর শহরের বড় বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। বৈশাখ মাস শেষ হতে চললেও নদীর ইলিশের সরবরাহ বাড়েনি। বাজারে যা কিছু মিলছে তার দামও অনেক বেশি। বড় বাজার মাছবাজারে বিক্রেতা এরশাদ আলী জানান, তিনি রোববার নদীর ১ কেজি ৪শ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ৪৫শ টাকা, ১ কেজি ইলিশ ৩৮শ টাকা, ৮শ/সাড়ে ৮শ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ৩ হাজার থেকে ৩২শ টাকা, ৬শ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ২৪শ টাকা, ৪শ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ১৬শ টাকা ও ৪টায় কেজি ইলিশ ১২শ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। তিনি আরও জানান, নদীতে জেলেরা তেমন ইলিশ পাচ্ছেন না, এ কারণে যশোরে সরবরাহও কম। তাছাড়া বঙ্গোপসাগরে ইলিশ ধরা নিষেধাজ্ঞা চলছে। এদিকে, বাজারে বিভিন্ন প্রজাতির মাছও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। মাছ বিক্রেতা তরিকুল ইসলাম, রুবেল হোসেন, জাকির হোসেন ও তবিবুর রহমান বাবু জানান, রোববার চাষের শিং মাছ প্রতি কেজি ৬শ টাকা, ট্যাংরা আকারভেদে ৭শ থেকে ১ হাজার টাকা, বড় সাইজের পুঁটি ৬শ টাকা, বড় সাইজের বাইম ১৩শ টাকা, শোল ১ হাজার টাকা, ফলুই ৪শ টাকা, আড়াই কেজি ওজনের কাতল মাছের কেজি সাড়ে ৩শ টাকা, ১ কেজি ৭শ গ্রাম ওজনের রুই মাছের কেজি ৩শ২০ টাকা, পাঙ্গাস মাছ ২শ৫০ টাকা, ২টায় কেজি তেলাপিয়া ২শ টাকা ও পাঁচ কেজি ওজনের ব্রিগেড মাছের কেজি ২শ২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বড় বাজার মাছবাজারের ‘তিতাস ফিশ’-এর স্বত্বাধিকারী গোলাম তাহের টগর লোকসমাজকে জানান, উৎপাদন বাড়াতে বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ ধরার ওপর গত ১৫ এপ্রিল থেকে ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা আগামী ১১ জুন শেষ হবে। এ কারণে বাজারে ইলিশের সরবরাহ তেমন নেই। আগামী আষাঢ় মাসের মাঝামাঝি সময়ের আগে বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ ইলিশের সরবরাহ না বাড়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। বাজারে মাছের দামের উর্ধ্বমুখীর পাশাপাশি ভালোমানের সবজিরও ঘাটতির দেখা দিয়েছে। সবজি বিক্রেতা নাসির আলী জানান, তিনি রোববার বেগুণ, উচ্ছে, শসা, গাজর, পেঁপে পর্যায়ক্রমে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। তিনি আরও জানান, সম্প্রতি বৃষ্টির কারণে পানি জমে প্রচুর সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ যথেষ্ট নয়। এ কারণে সবজির দাম বেড়েছে। সবজির দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ মুরগির ডিম কেনায় বেশি ঝুঁকেছেন। এ কারণে ডিমের দামও বেড়েছে। বড় বাজারে ডিম বিক্রেতা আবু কালাম জানান তিনি রোববার প্রতি হালি বাদামি রংয়ের মুরগির ডিম ৪৬ টাকা ও সাদা ডিম ৪৪ টাকায় বিক্রি করেছেন। তাছাড়া বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে খামারের লেয়ার মুরগির কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা। মুরগি বিক্রেতা আরিফুল ইসলাম মিলন জানান, তিনি রোববার লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি করেছেন ৩৭০ টাকা দরে, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৩৪০ টাকায়।