যশোরে ঐতিহ্যবাহী বৈদ্যনাথতলার মেলায় জনতার ঢল

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের কনেজপুর ও পাচবাড়ীয়া বৈদ্যনাথতলায় বার্ষিক পূজা, পদাবলী কীর্তন, মেলায় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূজাপার্বণ, আনন্দ উৎসব ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে সোমবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়।

শত বছরের ঐতিহ্য মেনে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে এই মেলা ও পূজা সম্পন্ন হয়। শ্রী শ্রী বৈদ্যনাথ কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র তরফদারের সভাপতিত্বে মেলা প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতে কেটে মেলার উদ্বোধন করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন। মেলার শুরুতে পূজা উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ যশোর জেলা শাখার সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ, সহ-সভাপতি অমলকান্তি দাস, সদর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি রবিন কুমার পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক বাবলু দাশ, জেলা পরিষদের প্রতিনিধি এম এ মজনু এবং ৬নং কাশিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সরোজ কুমার কুণ্ডু, মন্দির কমিটির সহ-সম্পাদক মিলন কুমার কুণ্ডু, কার্তিক চন্দ্র, রমা নাথ শীল, নিমাই চন্দ্র বিশ্বাস, লক্ষীকান্ত ও গুলাম চন্দ্র দাসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিখিল কুমার শিকদার।

লোকমুখে প্রচলিত আছে, এক অলৌকিক পাথরকে কেন্দ্র করে এই মেলার উৎপত্তি। জনশ্রুতি রয়েছে, বাবা বৈদ্যনাথের বিগ্রহ পাথরটি এককালে স্রোতস্বিনী বুড়ী ভৈরব নদীতে ভাসতে ভাসতে কনেজপুরের ঘাটে এসে তলিয়ে যায়।

পরবর্তীতে এক বৃদ্ধা নারী স্বপ্নকুলের মাধ্যমে জানতে পারেন, কেবল তিনিই এই পাথর উত্তোলন করতে পারবেন। অলৌকিক কৃপায় পাথরটি শোলার মতো হালকা হয়ে যায় এবং তা নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপন করা হয়। সেই থেকে সোমবারকে কেন্দ্র করে এই পূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

তৎকালীন জমিদার শচী প্রসন্ন মুখোপাধ্যায় ও তার ভাইয়েরা ৪৫ শতক জমি এই মন্দিরের নামে দান করেছিলেন। আধুনিক প্রযুক্তির যুগেও বৈদ্যনাথতলার এই মেলা বাঙালির হাজার বছরের লোক-সংস্কৃতির বাহন হিসেবে টিকে আছে।

মেলায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের এক মিলনমেলা পরিলক্ষিত হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তরা রোগমুক্তি, সন্তান লাভ বা মনের বাসনা পূরণের আশায় বাবা বৈদ্যনাথের চরণে প্রার্থনা জানান। মেলা কমিটির পক্ষ থেকে আগত দর্শনার্থীদের মাঝে প্রসাদ ও খাবার বিতরণ করা হয়।