যশোরে ঝড়-বৃষ্টিতে বোরো ধানে ক্ষতি, দামেও হতাশা

শতভাগ জমির ধান পেকে গেলেও প্রায় ৪০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে

0
jashore-boro-dhan-jhoti

আকরামুজ্জামান ॥ কয়দিন আগেও মাঠভরা সোনালি ধান দেখে যশোরের কৃষকের চোখেমুখে ছিল স্বস্তির হাসি। কিন্তু আকস্মিক ঝড় ও অকাল বৃষ্টিতে সেই আনন্দ এখন পরিণত হয়েছে দুশ্চিন্তা ও হতাশায়। বৈরী আবহাওয়া, শ্রমিক সংকট ও বাজারে দরপতন—সব মিলিয়ে বোরোর বাম্পার ফলনের সুফল পাচ্ছেন না তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে যশোরে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৯৭১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এরই মধ্যে শতভাগ জমির ধান পেকে গেলেও প্রায় ৪০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাটা ধান ঘরে তুলতে পারেননি কৃষকরা। অনেকেই জমিতে ধান শুকাতে দিয়েছিলেন, কিন্তু টানা বৃষ্টিতে তা ভিজে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কাটা ধান জমিতেই পড়ে আছে, আবার কোথাও পাকা ধান কাটার অপেক্ষায় নুয়ে পড়েছে। অনিশ্চিত আবহাওয়ার কারণে কৃষকরা ধান কাটতে দ্বিধায় পড়ছেন। যারা বেশি মজুরি দিয়ে শ্রমিক এনে ধান কেটেছেন, তারাও সময়মতো মাড়াই ও সংরক্ষণ করতে না পেরে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বাজার পরিস্থিতিও কৃষকদের জন্য হতাশাজনক। বর্তমানে ভিজে ধান বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায়, আর কিছুটা শুকনো ধান বিক্রি হচ্ছে ১১৫০ থেকে ১১৮০ টাকায়। এতে উৎপাদন খরচও উঠছে না বলে অভিযোগ চাষিদের।
বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের কৃষক শামসুর রহমান বলেন, “৬ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছি। দেড় বিঘা ধান কেটে মাড়াই করে বাজারে নিয়েছিলাম। কিন্তু প্রতি মণ ১১৮০ টাকা দরে বিক্রি করে হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে।”
একই এলাকার কৃষক নজির মোল্ল্যা বলেন, “শ্রমিক সংকট, ঝড়-বৃষ্টি আর দরপতন—সব মিলিয়ে আমরা চরম বিপদে আছি। শুরুতে বাম্পার ফলন হলেও এখন তা কোনো কাজে আসছে না।”

আরেক কৃষক জোহর আলী জানান, বোরো ধানের বীজতলা তৈরি থেকে শুরু করে রোপণ, পরিচর্যা, কর্তন, মাড়াই ও বাজারজাতকরণ পর্যন্ত প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু বর্তমান বাজারদরে সেই খরচও উঠছে না। তিনি বলেন, “অন্যান্য বছর বিচালী বিক্রি করে কিছু লাভ হতো, এবার বৃষ্টির কারণে সেটিও সম্ভব হচ্ছে না।”
কৃষকদের অভিযোগ, শ্রমিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, আর যারা পাওয়া যাচ্ছে তাদের মজুরি অনেক বেশি। ফলে সময়মতো ধান কাটতে না পারায় ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।
এদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, এ বছর যশোরে বোরো ধানের রেকর্ড ফলন হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষকরা সাময়িক সমস্যায় পড়েছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, “নিবিড় পরিচর্যার কারণে ফলন ভালো হয়েছে। আবহাওয়া দ্রুত স্বাভাবিক হলে কৃষকরা ধান ঘরে তুলতে পারবেন এবং ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন।”