পবিত্র ঈদুল আজহা রাত পোহালেই

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ : ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি ও মহান আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্যের অনন্য শিক্ষা নিয়ে মুসলিম উম্মাহর দ্বারে সমাগত পবিত্র ঈদুল আজহা। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, কোরবানির চেতনা ও ভ্রাতৃত্ববোধের বার্তা নিয়ে আগামীকাল ২৮ মে সারাদেশে উদযাপিত হবে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা।

ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে হযরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন। মহান আল্লাহ তাঁর সেই আনুগত্য ও ত্যাগকে কবুল করে মানবজাতির জন্য কোরবানির বিধান চালু করেন। সেই স্মৃতিকে ধারণ করেই প্রতি বছর বিশ্ব মুসলিম পালন করে পবিত্র ঈদুল আজহা।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মো. সাহাবুদ্দিন এবং তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এছাড়া বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

ঈদের প্রধান জামাত আয়োজনের জন্য জাতীয় ঈদগাহ ময়দান প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিচারপতি, কূটনীতিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঈদের জামাতে অংশ নেবেন। এ উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ভবনগুলোতে করা হয়েছে আলোকসজ্জা। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল প্রচার করছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। এছাড়া হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা ও শিশু সদনে পরিবেশন করা হবে বিশেষ খাবার।

ঈদের নামাজ শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে সামর্থ্যবান মুসলমানরা পশু কোরবানি করবেন। ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, হযরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর নির্দেশে প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-কে কোরবানি করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। মহান আল্লাহ তাঁর আনুগত্য ও ত্যাগের এই পরীক্ষায় সন্তুষ্ট হয়ে ইসমাঈল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি পশু কোরবানির ব্যবস্থা করেন। সেই ঘটনার স্মরণেই ইসলামে কোরবানির বিধান চালু হয়।

ঈদুল আজহার সঙ্গে পবিত্র হজের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সৌদি আরব-এ আজ ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। এরই মধ্যে হজ পালনকারীরা আরাফাতের ময়দান, মুজদালিফামিনায় হজের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছেন। বিশ্বের বহু দেশ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ ঈদ উদযাপন করছে।

এদিকে ঈদ উপলক্ষে গত ২৫ মে থেকে শুরু হয়েছে দীর্ঘ ছুটি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। ঈদের মূল ছুটির সঙ্গে নির্বাহী আদেশে ঘোষিত অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত হওয়ায় দীর্ঘ ছুটির সুযোগ পেয়েছেন কর্মজীবীরা।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের সব সিএনজি ও ফিলিং স্টেশন খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাত্রী হয়রানি বা ভোগান্তির অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নগরজীবনের ব্যস্ততা পেছনে ফেলে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে লাখো মানুষ নাড়ির টানে গ্রামে ফিরছেন। মহাসড়ক, রেলপথ ও নৌপথে ঘরমুখো মানুষের চাপ সামাল দিতে বাড়ানো হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থাপনা।

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোরবানির মূল শিক্ষা হচ্ছে আত্মত্যাগ, সংযম ও মানবতার কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করা। সমাজে বৈষম্য দূর করে ধনী-গরিবের মাঝে সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতা গড়ে তোলার অন্যতম উপলক্ষও এই ঈদ।