হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে ছয়টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শিশু মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে যা যা করা দরকার, সব করা হবে।

0

লোকসমাজ ডেস্ক : ঢাকায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে ছয়টি প্রাণ ঝরে গেছে। এসি বন্ধ রাখার ফলে আর কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না থাকায় অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশের মতো পরিস্থিতি হওয়ায় সম্ভবত তাদের মৃত্যু হয়েছে। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন। হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েনসহ তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। শিশু মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে যা যা করা দরকার, সব করা হবে।
মন্ত্রী বুধবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ সদরে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
হামের সংক্রমণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হামের সংক্রমনের জন্য বিগত দুইটি সরকারের অবহেলা দায়ী। প্রতি চার বছর পর পর এমআর টিকার ক্যাম্পেইন করার কথা ছিল। কিন্তু ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর দুই সরকারের কেউ এটা করেনি। যে কারণে এখন হামের সংক্রমণ শুরু হয়েছে।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল আরও বলেন, বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী সরকার ও পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের টাকা লুটপাট হয়েছে। ইউনিসেফ, এবি, এডিবিসহ বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে বারবার চিঠি দিয়ে অনুরোধ করার পরও ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হামের টিকা ক্রয় করেনি।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ইনশাআল্লাহ আগামী বাজেটে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে দ্বিতীয় বৃহত্তম বরাদ্দ রাখা হবে। আশা করি আগামী জুলাই থেকেই দেশের সকল হাসপাতালের সমস্যা দূরীকরণে কাজ শুরু হবে।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বেসরকারি ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক ও হাসপাতালে দ্রুত অভিযান চালিয়ে সেখানে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষিত চিকিৎসক না থাকলে এবং সরকারী লাইসেন্স মোতাবেক চিকিৎসা সেবা প্রদানে ব্যত্যয় পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ খান সোহেল ও ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাঃ নাজমুল করিমসহ অন্যান্যরা সাথে ছিলেন। এর আগে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রি সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল আজ সকালে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন করেন।