দেশে আজ যেসব জেলায় ঈদুল আজহা উদযাপন

0

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ দেশের বিভিন্ন জেলার কয়েকটি এলাকায় পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন মুসল্লিরা। ঈদের নামাজ, কোরবানি ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, পটুয়াখালী, মৌলভীবাজার, নোয়াখালী, জামালপুর, লক্ষ্মীপুর, বরগুনা ও দিনাজপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে।

সাতক্ষীরায় ২৩ গ্রামের আগাম ঈদ

সাতক্ষীরার সদর উপজেলার কুশখালী বাউখোলা জামে মসজিদে বুধবার সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা মহব্বত আলী। ইসলামকাটি, গোয়ালচাতর, ভাদড়া, ঘোনা, ভাড়খালী, মিরগিডাঙ্গা ও মাহমুদপুরসহ অন্তত ২৩টি গ্রামের কয়েক হাজার মুসল্লি এতে অংশ নেন।

নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করেন এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় কোরবানির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বিভিন্ন বাড়িতে সকাল থেকেই গরু ও খাসি কোরবানির আয়োজন দেখা যায়।

খুতবায় আলেমরা ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের শিক্ষা তুলে ধরে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আয়োজকদের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন।

ঝিনাইদহে ঘরোয়া জামাত

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার চটকাবাড়িয়া আহলে হাদিস জামে মসজিদসহ ভালকি ও নিত্যানন্দপুর এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বৃষ্টির কারণে অনেক মুসল্লি ঘরের মধ্যেই নামাজ আদায় করেন। আয়োজকদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরেই তারা সৌদি আরবের সময় অনুসরণ করে ঈদ উদযাপন করছেন।

দেশে আজ যেখানে আগাম ঈুল আজহা
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার চটকাবাড়িয়া আহলে হাদিস জামে মসজিদে বুধবার সকালে ঈদুল আজহার জামাত- লোকসমাজ

চট্টগ্রামে দরবারভিত্তিক ঈদ উদযাপন

চট্টগ্রামের চন্দনাইশের জাঁহাগিরিয়া শাহ সুফি মমতাজিয়া দরবার এবং সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরাও বুধবার ঈদ উদযাপন করেন। সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত ঈদের জামাতে ইমামতি করেন পীরজাদা সৈয়্যদ মাওলানা মোহাম্মদ আলী।

দরবার সূত্র জানায়, প্রায় দুই শতাব্দী ধরে বিশ্বের কোথাও চাঁদ দেখা সাপেক্ষে রোজা ও দুই ঈদ পালনের রীতি অনুসরণ করে আসছেন তাদের অনুসারীরা।

নারায়ণগঞ্জে জাহাগিরিয়া তরিকার অনুসারীদের ঈদ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকায় হযরত শাহ সুফি মমতাজিয়া এতিমখানা ও হেফজখানা মাদ্রাসায় সকাল ৯টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ, সাভার, টঙ্গীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা অংশ নেন।

পটুয়াখালীতে ৮ গ্রামের ঈদ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ধানখালী ইউনিয়নের উত্তর নিশানবাড়িয়া জাহাগিরিয়া শাহ সুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফ মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১৫০ বছর ধরে তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম ঈদ পালন করে আসছেন।

মৌলভীবাজারে ১৫ বছরের রেওয়াজ

মৌলভীবাজার শহরের সার্কিট হাউস এলাকায় সকাল ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত নারী-পুরুষ এতে অংশ নেন। আয়োজকদের মতে, তারা প্রায় ১৫ বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করছেন।

নোয়াখালীতে পাঁচ গ্রামের ঈদ

নোয়াখালীর লক্ষ্মীনারায়ণপুর, হরিণারায়ণপুর, রামভল্লবপুর, বসন্তবাগ ও ফাজিলপুর গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। কাদেরিয়া তরিকার অনুসারীরা প্রায় শতবর্ষ ধরে এ রীতি অনুসরণ করে আসছেন বলে জানা গেছে।

জামালপুরে ২০ গ্রামের অংশগ্রহণ

জামালপুরের ইসলামপুর, সরিষাবাড়ী ও মাদারগঞ্জ উপজেলার প্রায় ২০টি গ্রামের এক হাজারের বেশি মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আজহা পালন করেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেকেই ঘরে নামাজ আদায় করেন।

লক্ষ্মীপুরে ১১ গ্রামে আগাম ঈদ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ ও রায়পুর উপজেলার অন্তত ১১টি গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৭টায় রামগঞ্জের খানকায়ে মাদানিয়া কাসেমিয়া শাখায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

বরগুনা ও দিনাজপুরেও উদযাপন

বরগুনার বেতাগী, আমতলী ও পাথরঘাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় কাদেরিয়া চিশতিয়া তরিকার অনুসারীরা ঈদের নামাজ আদায় করেন। অন্যদিকে দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টি এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকেও মুসল্লিরা এতে অংশ নেন।

স্থানীয়ভাবে ভিন্ন দিনে ঈদ উদযাপন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও অংশগ্রহণকারীদের দাবি, এটি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও দীর্ঘদিনের অনুসৃত রেওয়াজের অংশ। একই সঙ্গে তারা মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারের আহ্বান জানান।