ভবদহে জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি, ৩ আগস্টের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে অবস্থান কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

পানিসম্পদ মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি; হরি-ভদ্রা নদী খনন সম্পন্ন ও নদীপথের পলি অপসারণের দাবি

0
ভবদহে জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত
যশোর ও খুলনার বিস্তীর্ণ ভবদহ অঞ্চলে চলমান ভয়াবহ জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবিতে পানিসম্পদ মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি- লোকসমাজ

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ : যশোর ও খুলনার বিস্তীর্ণ ভবদহ অঞ্চলে চলমান ভয়াবহ জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবিতে পানিসম্পদ মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। একই সঙ্গে আগামী ৩ আগস্টের মধ্যে পানি নিষ্কাশনে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পানিসম্পদ মন্ত্রীর কাছে এ স্মারকলিপি পাঠানো হয়। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সংগ্রাম কমিটির নেতারা বলেন, টানা বর্ষণ ও অপরিকল্পিত পানি ব্যবস্থাপনার কারণে যশোরের মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর উপজেলা এবং খুলনার ফুলতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলার ভবদহ এলাকার প্রায় দুই শতাধিক গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, ফসলি জমি ও প্রধান সড়ক ডুবে গিয়ে লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

তারা জানান, বহু পরিবার গবাদিপশুসহ ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু সড়কে আশ্রয় নিয়েছে। অনেক এলাকায় ঘরের ভেতর হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। শিক্ষা কার্যক্রম, কৃষিকাজ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন পানি বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে মানবিক সংকটের দিকে যাচ্ছে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সংগ্রাম কমিটির নেতারা অভিযোগ করেন, ভবদহের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে ধারাবাহিক আন্দোলনের পর সরকার আমডাঙ্গা খাল সংস্কার, হরি নদীসহ সংশ্লিষ্ট নদ-নদী খনন এবং স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে সমস্যার স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই ভবদহ অঞ্চলের মানুষকে একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ হরি ও ভদ্রা নদী খনন প্রকল্প এখনো সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়নি। নদী খননের সময় খর্ণিয়া সেতুর দক্ষিণ পাশে নির্মিত অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ করা হয়নি। এছাড়া নদীগর্ভে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ পলি পরিষ্কার না করায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে চলতি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

সংগঠনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে খর্ণিয়া থেকে কুলবাড়িয়া পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার নদীপথে জমে থাকা পলি অপসারণ, নদীতে নির্মিত সব ধরনের অস্থায়ী বাঁধ দ্রুত অপসারণ এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

নেতারা বলেন, আগামী ৩ আগস্টের মধ্যে সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হলে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা তসলিম-উর-রহমান, সদস্য সচিব চৈতন্য কুমার পাল, সদস্য জিল্লুর রহমান ভিটু, অনিল বিশ্বাস, শেখর রায়, মাসুদ শেখ, সাধন বিশ্বাস, বিকাশ চন্দ্র মল্লিক, পলাশ বিশ্বাস, রাজু আহমেদসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।