যশোর, শ্যামনগর ও লোহাগড়ায় বজ্রপাতে নিহত ৩, আহত ১

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন যশোরের এক কিশোর, সাতক্ষীরার এক মাছের ঘের মালিক এবং নড়াইলের এক কৃষক

0
যশোর, শ্যামনগর ও লোহাগড়ায় বজ্রপাতে নিহত ৩
প্রতীকী ছবি

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ তীব্র তাপদাহের পর শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বৃষ্টির মধ্যে বজ্রপাতে যশোর, সাতক্ষীরা ও নড়াইলে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন যশোরের এক কিশোর, সাতক্ষীরার এক মাছের ঘের মালিক এবং নড়াইলের এক কৃষক। এ ঘটনায় যশোরে আরও একজন আহত হয়েছেন।

যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের চান্দুটিয়া গ্রামে বজ্রপাতে মো. রুবেল হোসেন (১২) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আব্দুর রশিদ (৪৫) নামে এক কৃষক গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার বিকেলে উপজেলার চান্দুটিয়া গ্রামের পশ্চিম মাঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রুবেল হোসেন চান্দুটিয়া গ্রামের শিপন হোসেনের ছেলে। আহত আব্দুর রশিদ একই গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে। তিনি বর্তমানে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার বেলা ৩টার দিকে রুবেল পশ্চিম মাঠ থেকে বাড়ি ফিরছিল। একই সময় আব্দুর রশিদ গরু নিয়ে বাড়ির পথে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই রুবেলের মৃত্যু হয়। আব্দুর রশিদ জ্ঞান হারিয়ে মাঠে পড়ে যান। পরে বাড়ি ফেরার পথে এক পাওয়ার ট্রিলারচালক তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এদিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভেটখালী গ্রামে বজ্রপাতে আব্দুল হাকিম নামে এক মাছের ঘের মালিকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের লুৎফর গাজীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার দুপুরে বৃষ্টি শুরু হলে আব্দুল হাকিম একটি মাছের ঘেরের বেড়িবাঁধে অবস্থান করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

অন্যদিকে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার শালনগর গ্রামে বজ্রপাতে টিটুল খাঁন (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের মৃত মতি খাঁনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর ৩টার দিকে টিটুল খাঁন গরুকে পানি খাওয়ানোর জন্য মধুমতী নদীর চর এলাকায় যান। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রসহ মেঘের গর্জন শুরু হলে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

বৃষ্টি থামার পর স্থানীয়রা মাঠে গিয়ে তাকে জমির মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে। খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। গ্রামবাসীরা জানান, টিটুল খাঁন একজন পরিশ্রমী কৃষক ছিলেন। কৃষিকাজের পাশাপাশি তিনি গরু পালন করতেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি তিন সন্তানের জনক।