যশোরের বাঘারপাড়ায় ঘর থেকে মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার, রহস্য ঘিরে চাঞ্চল্য

0

বাঘারপাড়া (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার খলশী গ্রামে নিজ ঘর থেকে এক গৃহবধূ ও তার শিশুপুত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—এ নিয়ে এলাকায় রহস্য ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাত প্রায় ৯টার দিকে উপজেলার খলশী গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত গৃহবধূর নাম জুবায়দা খাতুন (৩২) এবং তার ছেলে জিসান (৬)। জুবায়দার স্বামী জাকির হোসেন, তিনি গ্রামের জাফর শিকদারের ছেলে।

স্থানীয় পশু চিকিৎসক আক্তার হোসেন জানান, রাত ৯টার দিকে তিনি খবর পান যে জাকির হোসেনের স্ত্রী ও শিশুপুত্র খাটের ওপর নিথর অবস্থায় পড়ে আছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখতে পান, শিশু জিসানের হাত-পা গামছা দিয়ে বাঁধা এবং একই খাটে তার মা জুবায়দার মরদেহ পড়ে আছে। জুবায়দার গলায় একটি ওড়না পেঁচানো ছিল। পরে তিনি বিষয়টি জিসানের বাবা জাকির হোসেনকে জানান। সে সময় জাকির বহরামপুর বাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছিলেন।

খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে বাঘারপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।

ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) পলাশ সাংবাদিকদের বলেন, “প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের আগে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।”

এক প্রতিবেশী জানান, পরিবারের সঙ্গে কারও উল্লেখযোগ্য শত্রুতা ছিল না। তবে তিনি ধারণা করছেন, জুবায়দা হয়তো আগে শিশুপুত্রকে হত্যা করে পরে আত্মহত্যা করতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

নিহত জুবায়দার ছোট বোন পিনজিরা জানান, জাকির হোসেন দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ জালাল আলম বলেন, “ঘটনাটি সন্দেহজনক। এটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে না। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

তিনি আরও জানান, পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।