এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ: ক্রিকেট-ফুটবলে ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের লড়াই

0

স্পোর্টস রিপোর্টার: বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণদের খেলাধুলায় আরও সম্পৃক্ত করা এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে প্রথমবারের মতো ক্রিকেট ও ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ। ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ’ নামে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে দেশের ১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল। আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া অবকাঠামো, আকর্ষণীয় প্রাইজমানি এবং টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনায় আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চলতি অক্টোবর মাসে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির দুটি ভেন্যু—বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা ও আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো। ক্রিকেটের উদ্বোধনী ম্যাচ ২৫ অক্টোবর এবং ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচ ২৬ অক্টোবর মাঠে গড়ানোর কথা রয়েছে।

আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের ১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রিকেট ও ফুটবলে ১০টি করে দল অংশ নেবে। দলগুলো দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। গ্রুপ পর্ব শেষে প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনালে উঠবে। সেমিফাইনালের বিজয়ী দল দুটি লড়বে শিরোপার জন্য।

ক্রিকেট ও ফুটবল—উভয় বিভাগের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ১০ লাখ টাকা করে। রানার্সআপ দলের জন্য থাকছে পাঁচ লাখ টাকা করে প্রাইজমানি। সব ম্যাচ ফ্লাডলাইটের আলোয় আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সূচি অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর ফুটবল এবং ১৩ নভেম্বর ক্রিকেটের ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রথম আসর।

বহুমাত্রিক ক্রীড়া অবকাঠামো

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বহুমুখী সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ক্রীড়া কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে এবিজি স্পোর্টস সিটি। এখানে ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবল, বক্সিং, স্কোয়াশ, ফুটসাল, সাঁতার, প্যাডেল টেনিস ও ব্যাডমিন্টলসহ বিভিন্ন খেলার আয়োজনের ব্যবস্থা রয়েছে। দেশীয় প্রতিযোগিতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রীড়া আয়োজনের উপযোগী অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যেও এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই ক্রীড়া কমপ্লেক্সের অন্যতম আকর্ষণ বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা। ফুটবল ভেন্যু হিসেবে ফিফার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই মাঠ বসুন্ধরা কিংস ফুটবল ক্লাবের হোম ভেন্যু। এখানে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলে নিজস্ব স্টেডিয়ামকেন্দ্রিক অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কিংস অ্যারেনা একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।

অন্যদিকে, কিংস অ্যারেনার পাশেই অবস্থিত আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পেয়েছে। সম্প্রতি এই মাঠে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার ক্রিকেট সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ক্রীড়া চর্চা বাড়ানোর লক্ষ্য

বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির পরিচালক মো. ইমরুল হাসান দেশের ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত সংগঠক। তিনি বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।

এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ইমরুল হাসান বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ সব সময় দেশের খেলাধুলার উন্নয়নে কাজ করে আসছে। এবিজি স্পোর্টস সিটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

তিনি জানান, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আরও আগ্রহী করে তোলা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ক্রীড়া চর্চার পরিসর বাড়ানোই এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য।

টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে ইমরুল হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে ক্রিকেট ও ফুটবল দিয়ে আয়োজনটি শুরু হচ্ছে। প্রথম আসরে ১০টি করে দল অংশ নেবে। তবে আগামী ডিসেম্বর মাসে ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে আরও বড় পরিসরে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রতিযোগিতার ব্যাপ্তি আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৃহত্তর বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়াঙ্গনের সম্ভাবনা

বাংলাদেশে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও বিভিন্ন আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। তবে ক্রিকেট ও ফুটবলকে একই আয়োজনের আওতায় এনে করপোরেট পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট আয়োজন শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যু, আকর্ষণীয় প্রাইজমানি, ফ্লাডলাইটে খেলা এবং টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপকে দর্শকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা, শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশ এবং নিয়মিত খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে এই আয়োজনের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে নিয়মিত প্রতিযোগিতা চালু রাখা, আরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পৃক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ধারাবাহিক ক্রীড়া চর্চার সুযোগ তৈরির ওপর।

প্রথম আসরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ডিসেম্বরের পরিকল্পিত বৃহত্তর আয়োজন বাস্তবায়ন করা গেলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ক্রিকেট ও ফুটবল প্রতিযোগিতা আরও সংগঠিত করার ক্ষেত্রে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।