নেত্রকোনায় মাদ্রাসাশিক্ষকের লালসার শিকার ১১ বছরের শিশু, ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

0
নেত্রকোনায় মাদ্রাসাশিক্ষকের পৈশাচিকতা: ১১ বছরের শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা ।। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছরের এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের পর সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মামলাটি করা হলেও অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি তার নানার বাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। শিশুটির বাবা তার মাকে ছেড়ে চলে যাওয়ায় জীবিকার তাগিদে মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত বছরের ২ নভেম্বর বিকেলে মাদ্রাসা ছুটির পর মসজিদ ঝাড়ু দেওয়ার নাম করে ওই শিক্ষক শিশুটিকে নির্জন কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে মা ও ছোট ভাইদের মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে একাধিকবার শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়।

সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে গত ১৮ এপ্রিল তাকে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষায় জানা যায়, শিশুটি প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। চিকিৎসক সায়মা আক্তার জানান, ১১ বছর বয়সী এই শিশুটির শারীরিক গঠন ও ওজন গর্ভাবস্থার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। শিশুটির পেলভিসের তুলনায় গর্ভস্থ ভ্রূণের মাথার আকার অনেক বড় হওয়ায় স্বাভাবিক প্রসব অসম্ভব। এমনকি সিজারিয়ান সেকশনের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যানেসথেসিয়া দেওয়াও তার জন্য বড় ধরনের শারীরিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বর্তমানে শিশুটির শরীরে রক্তশূন্যতাও প্রকট।

ঘটনা জানাজানির পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক স্ত্রী-সন্তানসহ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম জানান, আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।