কুমিল্লায় স্বামীর সামনে থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৪

0
কুমিল্লার চান্দিনায় আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে অটোরিকশা ঠেলে নেওয়ার সময় স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ৯৯৯-এ কল পেয়ে দ্রুত অভিযানে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।। প্রতীকী ছবি: এআই/লোকসমাজ

কুমিল্লার চান্দিনায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পথে স্বামীর সামনে থেকে স্ত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের এক ভয়াবহ ও পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের কামারখোলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ভুক্তভোগী ওই নারী (২৭) এক সন্তানের জননী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা সদরের বাসিন্দা ওই দম্পতি রোববার রাত ৯টার দিকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে চান্দিনা উপজেলায় এক আত্মীয়ের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। রাত ১০টার দিকে কামারখোলা এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ অটোরিকশাটির চার্জ শেষ হয়ে যায়। কোনো উপায় না পেয়ে তারা অটোরিকশাটি ঠেলে গন্তব্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে করে তিন যুবক এসে তাদের পথরোধ করে অত্যন্ত অশোভন আচরণ শুরু করে। তারা ঘটনাস্থলে ফোন করে আরও দুজনকে ডেকে আনে। অভিযুক্তরা একপর্যায়ে স্বামীকে ভয় দেখিয়ে ও জোরপূর্বক দূরে সরিয়ে দেয় এবং গৃহবধূকে টেনেহিঁচড়ে পার্শ্ববর্তী একটি নিভৃত খেতে নিয়ে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে।

ভয়াবহ এই পরিস্থিতির মধ্যে ভুক্তভোগীর স্বামী কৌশলে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সাহায্য চান। খবর পেয়ে চান্দিনা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় এবং ঘটনার সাথে জড়িত চারজনকে হাতেনাতে আটক করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— চান্দিনা উপজেলার মাদারপুর গ্রামের মো. আশিক (৩১), কামারখোলা গ্রামের মেহেদী হাসান ওরফে তারেক (২৪), মো. আরিফ (৩৪) এবং মো. ইসমাইল (৩৭)।

ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী নারী চরম আতঙ্ক ও মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ওরা আমাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে ধর্ষণ করে। আমি তাদের পায়ে ধরেছি, চিৎকার করে কান্না করেছি, কিন্তু আমার শেষ রক্ষা হয়নি। আমি পিশাচদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এই পাশবিক নির্যাতনে মোট পাঁচজন জড়িত ছিল। তাদের মধ্যে দুজন সরাসরি ধর্ষণ করে এবং বাকিরা সেখানে অবস্থান করছিল। ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন এবং গ্রেপ্তারকৃত চারজনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে। পুলিশ মামলার পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।