আবারও বাড়ল সবজির দাম সরবরাহ বাড়েনি সয়াবিনের

0
ছবি: সংগৃহীত।

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ সরকার সয়াবিন তেলের খুচরা দাম নির্ধারণ করার পরও বাজারে সরবরাহ বাড়েনি। এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে বেশ কিছু সবজির দাম বেড়েছে। এ সপ্তাহেও বাড়তি দামেই বিক্রি হয়েছে মুরগির ডিম। মাছের দামেও স্বস্তি নেই ক্রেতাদের।

যশোর শহরের বড় বাজারে মুদি দোকানগুলোতে এখনও বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। রোববার ‘আয়াশ স্টোর’-এর স্বত্বাধিকারী কামাল আহমেদ জানান, গত ২৯ এপ্রিল সরকার সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৪ টাকা বৃদ্ধি করে নতুন দাম নির্ধারণ করার পরও বাজারে সরবরাহ বাড়েনি।

এদিন বড় বাজারের খুচরা ভোজ্যতেল বিক্রেতা রবি ব্যানার্জি জানান, এ সপ্তাহে খোলা সয়াবিন তেল ও সরিষার তেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। কমেছে পাম তেল ও সুপার পাম তেলের দাম।

রোববার তিনি খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ২০৫ টাকা ও সরিষার তেল ২০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। গত সপ্তাহ থেকে কেজিতে ৩টাকা কমে ১৮২ টাকা কেজি পাম তেল ও ৩ টাকা কমে সুপার পাম তেল ১৮৭ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। তিনি আশা করছেন খোলা তেলের দাম আরও কমে আসবে।

রোববার বড় বাজারে বেশ কিছু সবজি চড়া দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ সপ্তাহে কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে গাজর বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে টমেটো বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে শসা বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা। তাছাড়া অন্যান্য সবজির দামও এ সপ্তাহে আগের মতই বাড়তি দামে বিক্রি হয়েছে।

বেগুনের কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা, শিম ৮০ থেকে ১০০ টাকা, উচ্ছে ৮০ টাকা, ঝিঙে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কুশি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল ৪০ থেকে ৫০ টাকা,পেঁপে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, লেবু প্রতি হালি ১০ থেকে ২০ টাকা ও লাউ প্রতিটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। সবজি বিক্রেতা নাসির আলী জানান, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে অনেক অঞ্চলে সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। চাষিরা ঠিকমত সবজি তুলতে না পারায় বাজারে সরবরাহ কম হয়েছে। এ কারণে সবজির দাম বেড়েছে।

মুরগির ডিম এ সপ্তাহে বর্ধিত দামে অপরিবর্তিত থাকলেও সরবরাহে ঘাটতির কারণে সামনের দিনগুলোতে আরও দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিক্রেতা আবু কালাম। তিনি এদিন খামারের বাদামি রংয়ের ডিমের হালি ৪৪ টাকা ও সাদা ডিম ৪০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন।

এদিকে বড় বাজার মাছবাজারে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দেখা মিললেও দাম এখনও ক্রেতাদের সাধ্যের বাইরে। রোববার মাছ বিক্রেতা তরিকুল ইসলাম ও আনিসুর রহমান জানান, এদিন বাগদা চিংড়ি বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, বাইম মাছ ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, ট্যাংরা মাছ ৭০০ টাকা, বোয়াল মাছ ৬০০ টাকা, শিং মাছ (চাষের) ৪৫০ টাকা, পাঁচ কেজি সাইজের পাঙ্গাশ মাছের কেজি ২৫০ টাকা, সিলভারকার্প ১৫০ টাকা, রুইয়ের কেজি ২৬০ টাকা, ফলুই মাছ ২৫০ টাকা ও বড় সাইজের তেলাপিয়া ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।