ফ্লোরিডায় লিমন-বৃষ্টি হত্যাকাণ্ড: তদন্তে উঠে এল রুমমেটের নৃশংসতার রোমহর্ষক বর্ণনা

0
(বাঁয়ের থেকে) জামিল আহমেদ লিমন, নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি এবং সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহ ।। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা তুলে ধরেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গত ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে (২৭) গ্রেপ্তার করে পূর্বপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্তকারী ও সরকারি আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় লিমন ও বৃষ্টি শেষবারের মতো যোগাযোগ করেছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে সেদিন বৃষ্টিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসে দেখা গেলেও পরে আর তাঁর খোঁজ মেলেনি। লিমনের মোবাইল ফোনের অবস্থান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সেদিন রাত পৌনে ৮টার দিকে তিনি আবাসস্থল থেকে ৩২ মাইল দূরে ক্লিয়ারওয়াটার এলাকায় ছিলেন। ঠিক ১০ মিনিটের ব্যবধানে ওই একই এলাকায় আবুঘরবেহর গাড়িটিকেও দেখা যায়। ওই রাতেই আবুঘরবেহ অনলাইনে ঘর পরিষ্কারের লাইজল, দুর্গন্ধনাশক ও আবর্জনা রাখার ব্যাগ অর্ডার করেন এবং চাকাওয়ালা ট্রলি ব্যবহার করে কিছু বাক্স ময়লা ফেলার স্থানে সরিয়ে নেন।

মর্মান্তিক এই ঘটনায় তদন্তকারীরা আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন। ১৭ এপ্রিল রাতে আবুঘরবেহ চ্যাটজিপিটির কাছে ‘হিলসবরো পার্কে গাড়ি তল্লাশি করা হয় কি না’ তা জানতে চেয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২৩ এপ্রিল তিনি আবারও চ্যাটজিপিটির কাছে ‘বিপন্ন প্রাপ্তবয়স্ক’ বলতে কী বোঝায় তা সার্চ করেন। লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড সেতুর কাছে একটি আবর্জনার ব্যাগ থেকে। লিমনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত পাওয়া গেছে, যার মধ্যে একটি ছিল যকৃৎ ফুটো করে দেওয়া গভীর ছুরিকাঘাত।

গ্রেপ্তারকৃত আবুঘরবেহ অতীতেও শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগে দুবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাঁর মা তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, ছেলের রাগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ছিল না। বর্তমানে লিমনের মরদেহ উদ্ধার হলেও বৃষ্টির সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।