টানা বৃষ্টিতে মোংলা বন্দর ও সুন্দরবন উপকূলে জনজীবন বিপর্যস্ত

টানা বৃষ্টিতে মোংলা বন্দর অচল, সুন্দরবন উপকূলে দুর্ভোগ | ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

0
মোংলা-সুন্দরবন উপকূল
দুই দিনে বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত

মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা, লোকসমাজ : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও বৈশাখের মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে মোংলা সমুদ্র বন্দরসহ সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকায় বিরূপ আবহাওয়া বিরাজ করছে। টানা দুদিনের মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার কারণে সাগর ও পশুর নদী উত্তাল হয়ে উঠেছে। ফলে মোংলা বন্দরের হাড়বাড়িয়া ও ফেয়ারওয়ে এলাকায় অবস্থানরত জাহাজ থেকে পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে সার, কয়লা ও সিমেন্ট ক্লিংকারবাহী জাহাজের কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। পণ্য ভিজে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক ক্ষেত্রে লোডিং-আনলোডিং কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
সুন্দরবন সংলগ্ন দুবলার চর, কানাইনগর ও জয়মনি এলাকার জেলেরা জানান, উত্তাল সাগর ও ভারী বৃষ্টির কারণে তারা নদীতে নামতে পারছেন না। ফলে মাছ ধরা কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।
একই সঙ্গে বনের ওপর নির্ভরশীল গোলপাতা আহরণকারী বাওয়ালি ও মৌয়ালদের কাজও বন্ধ রয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে মোংলা পৌর শহরের নিম্নাঞ্চলগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে রাস্তাঘাটে পানি জমে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।
দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ কাজের সন্ধানে বের হতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন
আবহাওয়া অফিস মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে উপকূলীয় চিংড়ি ঘের তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা। এছাড়া সুন্দরবন সংলগ্ন বেড়িবাঁধগুলোর স্থায়িত্ব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
পশুর নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।