উলাশীর খাল খনন অনুষ্ঠানে এলপিজি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

0
ছবি: লোকসমাজ।

বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা ॥ শার্শা উপজেলার উলাশীর খাল পুনঃখননের অনুষ্ঠান পরিণত হয় এক মিলনমেলা। প্রতিশ্রুতি আর প্রত্যাশা আর প্রাপ্তি যেন মিলেমিশে একাকার। কারণ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান যশোরসহ বিভিন্ন নির্বাচনি জনসভায় যেসব প্রতিশ্রুতি দেন তার সবই আস্তে আস্তে পূরণ হচ্ছে। উলাশীর খাল খনন সেরকম একটি প্রতিশ্রতি পূরণ।

এরকম এক উৎসবমুখর পরিবেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা দেন নতুন কর্মসূচির। তিনি বললেন, মা-বোনদের রান্নার কষ্ট কমাতে সরকার এবার এলপিজি কার্ড দেবে।

একথা শুনে উপস্থিত নারীদের মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তির হাসি। কারণ গ্রাম হোক বা শহর, রান্নাঘরের কষ্টের গল্প প্রায় একই। কখনো জ্বালানির সংকট, কখনো বাড়তি খরচ, কখনো কাঠ-খড়ির ধোঁয়া। সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মা-বোনদের একটি কারণে খুব কষ্ট হয়। সেটি হলো রান্নার কষ্ট হয়। তা গ্রামের মা- বোনই হোক বা শহরের ।

তিনি জানান, দেশের প্রতিটি সাধারণ ও নারী প্রধান পরিবারের হাতে যেমন ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, তেমন এবার আলাদা করে এলপিজি কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে নারীদের কাছে সহজে এলপিজি গ্যাস পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে রান্নার জন্যে তাদের আর ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।

সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করতে এসে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

নিজ হাতে মাটি কেটে খননকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন তিনি। এরপর বিশাল জনসমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে উন্নয়ন, নারীকল্যাণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নানা দিক তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সরকার তা বাস্তবায়ন করছে। আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম খাল খনন করবো, আমরা ওয়াদা রেখেছি। বলেছিলাম মা-বোনদের স্বাবলম্বী করার জন্যে ফ্যামিলি কার্ড দেব। ইনশাল্লাহ আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের সব গ্রামে, সব মায়েদের হাতে এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করবো।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে নারী শিক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি যারা ভালো ফল করবে, তাদের জন্যে উপবৃত্তির ব্যবস্থা চালু করা হবে, যাতে তারা উচ্চশিক্ষায় আরও এগিয়ে যেতে পারে।

উলাশীর খালপাড়ে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও উন্নয়নের নতুন আশার কথা বলেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট হয়ে থাকায় এ এলাকা পানিবন্দি হয়ে থাকে। বর্ষা মৌসুমে কৃষিজমি ডুবে যায়, পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়। খালটি পুনঃখনন করা হলে এ সমস্যার সমাধান হবে। সেচব্যবস্থা উন্নত হবে। কৃষি উৎপাদন বাড়বে।

কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন, এই খাল আগে এলাকার প্রাণ ছিল। পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জমির অনেক ক্ষতি হয়েছে। আবার খনন হলে কৃষকের উপকার হবে।