• পর্যবেক্ষক

মোংলা থানায় নতুন ওসি এসেছেন আগের ওসির মাত্র চার মাসের মাথায়। হঠাৎ বদলির ঘটনায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, যা নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
বন্দরকেন্দ্রিক অপরাধ
বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, পশুর নদীর ‘সাদা পোশাকের’ দস্যুতা ও জাহাজকেন্দ্রিক সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। ভুয়া লাইসেন্সধারী জলযান ব্যবহার করে মাঝনদীতে নোঙর করা জাহাজ থেকে যন্ত্রাংশ, প্যানেল বোর্ড ও জ্বালানি তেল চুরি ও পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া লাইটার ও কার্গো জাহাজ থেকে নিয়মিত পণ্য চুরির ঘটনাও বাড়ছে। এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা নতুন ওসির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

mongla-sundorban
সুন্দরবনে দস্যুতার পুনরুত্থান
দীর্ঘদিন শান্ত থাকার পর আবারও সুন্দরবনের পূর্বাঞ্চলে বনদস্যুদের তৎপরতা বেড়েছে। চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জে নতুন কয়েকটি দস্যু বাহিনীর সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, বন্যপ্রাণী পাচার এবং কাঠ চোরাচালান আবারও বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযান ছাড়া এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সমতলে ভূমিদস্যুতা ও সন্ত্রাস
মোংলার স্থলভাগেও অপরাধের চিত্র উদ্বেগজনক। মাছের ঘের ও জমি দখলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এক শ্রেণির প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, অনেক সময় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ থানায় পৌঁছালেও কার্যকর প্রতিকার মেলে না। এই বাস্তবতায় জনবান্ধব পুলিশিং প্রতিষ্ঠা করা নতুন ওসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাদক ট্রানজিট রুট হিসেবে মোংলা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোংলা অঞ্চল এখন মাদকের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। সুন্দরবনের দুর্গম নদী ও খালপথ ব্যবহার করে বড় বড় চালান প্রবেশ করছে।
এ অবস্থায় শুধু খুচরা বিক্রেতা নয়, মাদক চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা এবং রুটগুলো চিহ্নিত করে বন্ধ করা জরুরি।
প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা, নতুন ওসি রাজনৈতিক চাপের ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করবেন। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণই তাঁর সফলতার মাপকাঠি হবে।
মোংলাকে দস্যুতা, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে পারলে তা হবে তাঁর কর্মজীবনের বড় সাফল্য। তবে এই পথ মোটেই সহজ নয়- এটি এক কঠিন ‘অগ্নিযাত্রা’।