যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরকারী অন্তর্বর্তী সরকারের বিচার চান অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ

0
রাজধানীর শাহবাগে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সমাবেশে সভাপ্রধান হিসেবে বক্তব্য দিচ্ছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, সদস্য, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি || ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তিকে বাংলাদেশের জন্য চরম ক্ষতিকর এবং ‘দাসখত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি আয়োজিত এক সমাবেশে সভাপ্রধানের বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, এই চুক্তির ফলে লাখ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারাবে এবং দেশ পরনির্ভরশীল হয়ে পড়বে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সাবেক এই অধ্যাপক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের স্বার্থবিরোধী অনেকগুলো সর্বনাশা কাজ করেছে। তিনি বর্তমান জাতীয় সংসদে আলোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে এই চুক্তি প্রত্যাখ্যানের জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত করে শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং দায়ীদের বিচারের দাবি তোলেন তিনি। আনু মুহাম্মদ বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের অনেকে হয়তো এখন বিদেশে থাকেন; যেখানেই থাকুক, তাঁদের বিচার করা বর্তমান সরকারের দায়িত্ব।”

সমাবেশে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে স্টারলিংক, এলএনজি আমদানি এবং চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে বিভিন্ন চুক্তি করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, সেই সময় রাজনৈতিক নেতারা যমুনায় সভা করলেও কেউ এসব চুক্তির বিরোধিতা করেননি। বর্তমান বিএনপি সরকারের ভূমিকাও অধিকার কমিটি পর্যালোচনা করছে এবং আগামী ২৫ এপ্রিল এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে তিনি জানান।

সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাহা মির্জা বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের জ্বালানি ও স্থানীয় শিল্প যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক হারুন অর রশিদ আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই চুক্তির ফলে ওষুধশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ওষুধের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য মাহতাব উদ্দীন আহমেদের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন আবুল কালাম আজাদ এবং উপস্থিত ছিলেন মোশরেফা মিশু, আলতাফ পারভেজ ও অরূপ রাহী প্রমুখ।