আগামী ছয় মাসে ৫ লাখ জনবল নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা সরকারের

0
সরকারি চাকরিতে রেকর্ড নিয়োগের তোড়জোড়; ৬ মাসে ৫ লাখ জনবল নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা।। প্রতীকী ছবি: এআই/লোকসমাজ

লোকসমাজ ডেস্ক॥ বেকারত্ব নিরসন ও সরকারি সেবা আরও গতিশীল করতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ লাখ জনবল নিয়োগের এক বিশাল কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ—এই চারটি শ্রেণিতেই নিয়োগ দেওয়া হবে। এরই মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ১৮০ দিনের একটি বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে এবং প্রস্তাবনাটি গত মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘স্ট্যাটিসটিকস অব পাবলিক সার্ভেন্টস-২০২৪’ অনুযায়ী, বর্তমানে প্রশাসনে মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে শূন্য পদ ৬৮ হাজার ৮৮৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি, তৃতীয় শ্রেণিতে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি এবং চতুর্থ শ্রেণিতে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি। এই বিশাল শূন্যপদ পূরণে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির নিয়োগ দেবে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগ সমন্বয় করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সরকারের নিয়মিত রাজস্ব বাজেটের আওতায় প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ চার মাসে (মার্চ-জুন) লাগবে সাড়ে চার কোটি টাকা এবং আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতে (জুলাই-আগস্ট) প্রয়োজন হবে বাকি চার কোটি টাকা।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানিয়েছেন, স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সাথে এই নিয়োগ সম্পন্ন করতে ১৮০ দিনের একটি কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁর মন্ত্রণালয়ে খালি থাকা প্রায় ৭৭ হাজার ৮৭৭টি পদের বিপরীতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কিছু শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়ার মতে, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, নিয়োগ বিধির জটিলতা এবং আইনি সমস্যা নিরসন করা না গেলে এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।