যশোরে বর্ষবরণের প্রস্তুতি সভা, থাকছে না মুখোশ

0
ছবি: লোকসমাজ।

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ যশোরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে যশোর কালেক্টরেট ভবনের ‘অমিত্রাক্ষর’ সভা কক্ষে এই সভা হয়। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত হয় এবার অনুষ্ঠিত শোভাযাত্রার নাম হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’।

সকাল সাড়ে ৮টায় টাউন হল ময়দান থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে শেষ হবে। শোভাযাত্রায় মুখে পরা যাবে না কোনো মুখোশ। বৈশাখের কোনো অনুষ্ঠান সন্ধ্যার পর কোথাও হবে না, সন্ধ্যার আগেই শেষ হবে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্ষবরণের মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। এরপর সকাল ৮:৩০ মিনিটে টাউন হল মাঠ থেকে একটি বিশাল বর্ণাঢ্য ও বর্ণিল শোভাযাত্রা বের করা হবে। জেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় টাউন হল ময়দানে এসে শেষ হবে।

তবে শোভাযাত্রায় মুখে কোনো মুখোশ পরা যাবে না। অবশ্য হাতে ও প্লাকার্ড হিসেবে মুখোশ বহন করা যাবে। প্রতিকৃতি হিসেবে মুখোশ হাতে বা প্ল্যাকার্ড হিসেবে রাখা যাবে। সন্ধ্যার আগেই জেলার সকল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সমাপ্ত করতে হবে।

গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যবহৃত লাঙ্গল, জোয়াল, গরুর গাড়ি, মাথালসহ কৃষক জীবনের উপকরণ সমৃদ্ধ এ শোভাযাত্রাটি হবে অতীতের চেয়ে বর্ণিল ও মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ। উৎসবকে প্রাণবন্ত করতে লোকজ মেলার আয়োজন করা যাবে।

সভায় নিরাপত্তার প্রশ্নে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার জানান, যানজট নিরসন ও জননিরাপত্তায় পুলিশ বিভাগ মাঠে তৎপর থাকবে। তিনি অনুরোধ করেন, এবার অবশ্যই সাংস্কৃতিক সংগঠন যেন সন্ধ্যার আগেই অনুষ্ঠান শেষ করে।

এদিকে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে যশোর জেনারেল হাসপাতাল, জেলখানা, সরকারি শিশু পরিবার ও এতিমখানাগুলোতে উন্নতমানের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার পরিবেশন করা হবে। এ ছাড়া শিশু একাডেমিতে শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, যশোরে বরাবরই নান্দনিকভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়। নতুন সরকারের অধীনে আমরা এই নববর্ষকে আরও আনন্দঘন ও বর্ণিল করতে চাই। আবহমান বাংলার রূপ শোভাযাত্রায় ফুটিয়ে তোলার জন্য আমি সবাইকে আহ্বান জানাই।

জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, পহেলা বৈশাখ উদযাপনকারী প্রতিটি সাংস্কৃতিক সংগঠনকে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার, জেলা পরিষদ সিইও এস এম শাহীন, দৈনিক লোকসমাজের প্রকাশক ও যশোর ক্লাব সেক্রেটারি শান্তনু ইসলাম সুমিত, যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম সোহান, প্রেস ক্লাব সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনসহ সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।