চৌগাছায় জ্বালানি তেল নিয়ে ইউএনওর মতবিনিময়

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ জ¦ালানি তেলের সংকট নেই অথচ পেট্রোল পাম্পগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন। এতে ভোগান্তি বেড়েছে সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে বোরো চাষি ডিজেলচালিত স্যালোমেশিন মালিকরা পড়েছেন বিড়াম্বনায়। এ অবস্থায় চৌগাছায় পরিস্থিতি কিভাবে স্বাভাবিক করা যায় সে বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) স্থানীয় সাংবাদিক ও কৃষকদল নেতাদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন, শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক অধ্যক্ষ আবু জাফর, প্রেস ক্লাব চৌগাছার সদস্য সচিব দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার চৌগাছা স্টাফ রিপোর্টার মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম হাসান মাহমুদ, সাংবাদিক মঈনউদ্দিন, আসিফ ইকবাল রকি, ইমাম হোসেন সাগর, সুজন দেওয়ান, মেহেদী হাসান শিপলু, শাহিন সোহেল, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আজগার আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিক ও কৃষকদল নেতারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বলেন, চৌগাছার চারটি পাম্প নিয়মিত তেল সরবরাহ করে যাচ্ছে, যে পরিমাণ তেল দেওয়া হচ্ছে তাতে কোনভাবেই তেলের সংকট হওয়ার কথা না। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি এক শ্রেণির ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এক পাম্প হতে তেল নিয়ে বাইক পরিবর্তন করে অন্য পাম্পেগিয়ে তেল নিচ্ছে। শুধু তাই না অনেকে বাড়ি গিয়ে বাইক হতে তেল বের করে পরের দিন অন্য পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিয়ে যাচ্ছে। তারা তেল কালোবাজারে অধিক মুল্যে বিক্রি করছেন।

এর চেয়েও বড় একটি সমস্যা হচ্ছে চৌগাছার পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলো থেকে শ’শ মোটরবাইকাররা চৌগাছা থেকে নিয়মিত তেল নিচ্ছে। যার কারণে চৌগাছার মানুষ তেল পাচ্ছে না, প্রতিদিনই লাইন হচ্ছে বড়।

ডিজেলের বিষয়ে বলেন, কৃষকরা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পাচ্ছে না এটি বড়ই কষ্টের। যেহেতু এখন বোরো ধানের চাষ চলছে সে জন্য কৃষকের ডিজেল আগে নিশ্চিত করতে হবে।

এ সব বিষয়ে তারা নির্বাহী অফিসারকে বেশ কিছু পরামর্শ দেন। যেমন পেট্রোল ও অকটেন চৌগাছার বাইরের লোকেদের কাছে বিক্রি বন্ধ রাখা। এনআইডি কার্ড, গাড়ির কাগজপত্র, হেলমেট ছাড়া কাউকে তেল দেওয়া যাবে না, পাম্পে দুটি লাইন করলে বেশি ভালো। একটিতে সাধারণ মানুষ অন্যটিতে চাকরিজীবী শিক্ষকরা তেল নিবেন।

ডিজেলের ব্যাপারে কৃষককে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডিজেল দেওয়ার পর যদি ডিজেল থাকে সে ক্ষেত্রে ভাটার ট্রাক, মাটি কাটা ট্রাক, নছিমন করিমনসহ অন্য বাহনে ডিজেল দিতে হবে। এমন কিছু নিয়ম মেনে কয়দিন চলছেই চৌগাছায় এমন দীর্ঘ লাইন আর থাকবে না।

নির্বাহী অফিসার ফারজানা ইসলাম সকলের কথা মনোযোগ সহকারে শোনার পর বলেন, দুয়েক দিনের মধ্যেই রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং পাম্প মালিকদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে।