এক রাতে এক মাঠের ৮টি ট্রান্সফরমার চুরি, ক্ষতির মুখে ৬শ বিঘা ফলনমুখি ধান

0
ছবি: লোকসমাজ।

মীর মঈন হোসেন মুসা ॥ যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের হালসা গ্রামের মাঠ থেকে একই রাতে ৮টি বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ৮টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। হালসা গ্রামের বুকভরা বাওড় সংলগ্ন মাঠের ৩টি বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে এই ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে।

চার দিন আগে এই ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় বিপাকে পড়েছেন ওই অঞ্চলের কৃষকেরা। ট্রান্সফরমার চুরির কারণে বিদ্যুৎ সুবিধা না পাওয়ায় সেখানকার প্রায় ৬শ বিঘার জমির ইরি ধানের ক্ষেতে সেচ দিতে পারছেন না তারা। বর্তমানে মাঠের ধানে শীষ আসা শুরু হয়েছে।

এখন সেচ অতিব জরুরি। এ সময়ে দ্রুত ট্রান্সফরমারের ব্যবস্থা না করতে পারলে কৃষকেরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখিন হবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বুধবার দুপুরে হালসা গ্রামের মাঠে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বুকভরা বাওড় সংলগ্ন মাঠের ৩টি বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ৮টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। অজ্ঞাত পরিচয় চোরেরা ট্রান্সফরমারের ভেতর থাকা কেবল (তার) বের করে নিয়ে অন্যন্য যন্ত্রাংশ ফেলে রেখে গেছে।

বাওড় পাড়ে বসানো একটি স্যালো মেসিনের চালক ওলিয়ার রহমান জানান, ২৯ মার্চ ভোরে তিনি বাওড় পাড়ে স্থাপন করা সালো মেসিন চালু করতে গিয়ে ট্রান্সফরমারের খোলস পড়ে থাকতে দেখেন।

এরপর তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তাদের কাছাকাছির ৩টি খুঁটি থেকে মোট ৮টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে গেছে। গত ২৮ মার্চ রাতের কোনো এক সময় চুরির ঘটনা ঘটে। ট্রান্সফরমার চুরির কারণে আরো ২টি স্যালো মেসিন চালু করা যাচ্ছেনা। এই স্যালো মেসিনের সাহায্যে বুকভরা বাওড়ের পানি তারা ধানক্ষেতে দিয়ে থাকেন।

তিনি বলেন, পরে বিষয়টি কৃষক মোস্তফা ঢালি, হযরত আলী, জাহিদুল ইসলাম ও মোরশেদ আলীসহ অনেককে জানান। তারাও মাঠে এসে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা দেখতে পান। এরপর তারা বিষয়টি তারা কোতয়ালি থানার পুলিশকে অবহিত এবং জিডি করেন। কৃষি অফিসেও খবরটি জানান। এছাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকেও জানিয়েছেন।

কৃষক মোর্শেদ আলী সাংবাদিকদের জানান, স্যালো মেসিনের সাহায্যে বাওড় থেকে পানি উঠিয়ে তারা ফসলের ক্ষেতে দিয়ে থাকেন। হালসা গ্রামের হযরত আলীর দুইটা এবং হালসা বুকভরা (পশ্চিমাংশ) বাওড় সমবায় সমিতির নামে আরো একটি স্যালো স্থাপন করা রয়েছে পানি সেচের জন্য। তিনি বলেন, ২৮ মার্চ দিবাগত রাতে অজ্ঞাত চোরচক্র হযরত আলীর স্যালো সংযোগের পাঁচটি এবং সমিতির স্যালো সংযোগের তিনটি মোট ৮টি ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে গেছে। এই তিনটি স্যালো থেকে প্রায় ৬শ বিঘার ফসলের ক্ষেতে সেচ দেওয়া হতো।

কিন্তু ট্রান্সফরমার চুরির কারণে ৪ দিন ধরে সেচ দেওয়ার কাজ বন্ধ রয়েছে। মাঠেও পানি নেই। অথচ সবেমাত্র ধানের শীষ আসা শুরু হয়েছে। এই মুহূর্তে ধানের ক্ষেতে প্রচুর পানির প্রয়োজন। পানি দিতে না পারলে কৃষকেরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখিন হবে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মাঠ পরিদর্শনে আসা যশোর সদর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি অফিসার জহিরুল ইসলাম ও বিল্লাল হোসেন দুই জনই বলেন, ধানের ক্ষেতে এই মুহূর্তে পানির খুবই প্রয়োজন। পানি না পেলে ধান চিটা হয়ে যাবে৷

তারা জানান, এখানকার মাঠে যে উৎস থেকে সেচ দেওয়া হয় সেটাকে লো লিপ পাম্প ( এলএলপি) বলা হয়। অর্থাৎ পানির উৎস থেকে সেচ দেওয়া। বাওড়ের পানির ওপর নির্ভর এই অঞ্চলের কৃষকেরা। পানি ক্ষেতে দিতে না পারলে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

হালসা বুকভরা বাওড় সমবায় সমিতির সদস্য কৃষক নাসির উদ্দিন জানান, ট্রান্সফরমারের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে তারা যোগাযোগ করেছিলেন। সেখান থেকে বলা হয়েছে, ট্রান্সফরমার ক্রয় করে দিলে তারা সংযোগ স্থাপন করে দিতে পারবেন।

তিনি বলেন, একটি ট্রান্সফরমার ক্রয় করতে ৪৫/৪৬ হাজার টাকার প্রয়োজন। আনুষঙ্গিক খরচ দিয়ে ট্রান্সফরমার বসাতে প্রতিটিতে মোট ৫০ হাজার লাগবে। ফলে ৮টি ট্রান্সফরমারের জন্য খরচ হবে ৪ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আসাদুজ্জামান খান জানান, প্রতিটি ট্রান্সফরমারের জন্য ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে। যাদের প্রয়োজন তারা ক্রয় করে দিলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সেটি স্থাপন করে দিতে পারবে।

হালসা বুকভরা বাওড় সমবায় সমিতির সদস্যরা জানান, চুরির ঘটনাটি যশোরের জেল প্রশাসক আশেক হাসানকেও অবহিত করা হয়েছে।