যশোরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ভোক্তা অধিকার বিষয়ে মতবিনিময় সভা

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন অধিকতর প্রচারের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টার দিকে শহরের সম্মিলনী ইনস্টিটিউশনের সম্মেলনকক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার প্রত্যয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ করা যায়।

মতবিনিময় সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সম্মিলনী ইনস্টিটিউশনের প্রধানশিক্ষক মিহিরকান্তি সরকার এবং কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) যশোর জেলার সহ-সভাপতি আব্দুর রকিব সর্দার অপু। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রধান আলোচক মো. সেলিমুজ্জামান ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, এর প্রয়োগ এবং ভোক্তাদের করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে ভোক্তাদের অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন অসাধু ব্যবসায়ী প্রতারণা করছে। এ ধরনের অনিয়ম রোধে আইন রয়েছে এবং যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে অধিদপ্তর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘যেখানেই ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘিত হবে, সেখানেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়ানো গেলে অনেকাংশেই এসব অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব।’

এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদেরকে ভবিষ্যৎ সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান এবং দৈনন্দিন জীবনে পণ্য বা সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন।

প্রধানশিক্ষক মিহিরকান্তি সরকার তার বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার্থীরা আজকের আলোচনা থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান নিজেদের জীবনে প্রয়োগ করবে এবং পরিবার ও সমাজে সচেতনতা ছড়িয়ে দেবে।

ক্যাবের সহ-সভাপতি আব্দুর রকিব সর্দার অপু বলেন, ভোক্তা অধিকার রক্ষায় শুধু আইন থাকলেই হবে না, এর যথাযথ প্রয়োগ ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে ধরেন। পণ্যের মান যাচাই, মেয়াদোত্তীর্ণ দ্রব্য, ভেজাল পণ্য শনাক্তকরণ, অভিযোগ করার পদ্ধতি ইত্যাদি বিষয়ে তারা জানতে চান। প্রধান আলোচক এসব প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর দেন এবং প্রয়োজনে কীভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ জানাতে হয় সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।