মুরগির কেজিতে বাড়ল ৬০ টাকা কমেছে সবজির দাম

0
ছবি: সংগৃহীত।

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ ক্রেতা চাহিদাকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা ঈদের পর আরও দাম বাড়িয়েছেন খামারের মুরগির, কেজিতে বেড়েছে ৬০ টাকা। এদিকে, উত্তরবঙ্গ থেকে যশোরে পরিবহন খরচ বাড়তির অজুহাতে দাম বেড়েছে আলুর, ঈদের পর কেজিতে বেড়েছে ৮ টাকা। ভোজ্যতেলের দাম সামান্য বাড়লেও কমেছে সবজির দাম। তবে চালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

রোববার যশোর শহরের বড় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের পরে ক্রেতাদের চাহিদা বাড়ায় ব্যবসায়ীরা খামারের মুরগির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ টাকা, যা ঈদের আগে ছিল ৩২০ টাকা। লেয়ার মুরগিতেও ঈদের পরে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকায়। তবে কেজিতে ১০ টাকা কমে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা। বড় বাজারের খুচরা মুরগি বিক্রেতা আরিফুল ইসলাম মিলন জানান, ঈদুল ফিতরের সময় থেকে খামারের মুরগির চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

এদিকে, যশোর বড় বাজারে উত্তরবঙ্গের রাজশাহী,দিনাজপুর, জয়পুরহাটের বিভিন্ন মোকাম থেকে ব্যাপারিরা গোল আলু নিয়ে বিক্রি করতে আসেন। বর্তমানে পরিবহন খরচ বাড়ার অজুহাতে তারা যশোর বাজারে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। রোববার বড় বাজারে প্রতি কেজি গোল আলু ২৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। মাত্র দুদিন আগেও বাজারে ১৭ টাকা কেজি দরে আলু পাওয়া যাচ্ছিল। বড় বাজারের আড়তদার নিতাই সাহা জানান, ট্রাক ভাড়া বেশি হওয়ায় গোল আলুর দাম বেড়েছে। তিনি রোববার পাইকারি দরে প্রতি কেজি আলু সাড়ে ১৬ টাকায় বিক্রি করেছেন।

বাজারে ভোজ্যতেলের দামও সামান্য বেড়েছে। রোববার ঈদের পর প্রতি কেজিতে ৫ টাকা করে বেড়ে পাম তেল বিক্রি হয়েছে ১৭৫ টাকা, সুপার তেল ১৮০ টাকা ও সরিষার তেল ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে সয়াবিন তেলের দাম কেজিতে ২০৫ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে। বড় বাজারের খুচরা ভোজ্যতেল বিক্রেতা রবি ব্যানার্জি জানান, বিগত দিনের মতো কোনো পাইকারি বিক্রেতা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াতে পারছেন না।

বড় বাজার চালবাজারেও ঈদের পর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। রোববার নাজিরশাইল চাল প্রতি কেজি মানভেদে ৭৬ থেকে ৮০ টাকা, বাংলামতি চাল ৭৬ থেকে ৮০ টাকা, বিআর-৬৩ চাল ৬৪ থেকে ৭০ টাকা, মিনিকেট চাল ৫৮ থেকে ৬৪ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৫০ থেকে ৫৪ টাকা, বিআর-১০ চাল ৫২ থেকে ৫৪ টাকা, বিআর-৪৯ চাল ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা, বিআর-৫১ চাল ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা, স্বর্ণা চাল ৪৬ টাকা ও হীরা চাল ৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। যশোর বড় বাজার চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সুশীল কুমার বিশ্বাস জানান, সামনে নতুন বোরো ধানের চাল বাজারে আসার আগে বড় ব্যবসায়ীরা তাদের মজুত করা চাল বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন। তিনি আশা করছেন চালের দাম আর বাড়বে না।

বাজারে ঈদের পর গ্রীষ্মকালীন সবজির দাম এ সপ্তাহে বেশ খানিকটা কমেছে। সজনে ডাটার কেজিতে ৪০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, পটলের কেজিতে ৪০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা,গাজরের কেজিতে ২০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা, কুশির কেজিতে ২০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা।

তাছাড়া প্রতি কেজিতে ১০ টাকা করে কমে বেগুন ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, শসা ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বড় বাজারের আড়তদার জহিরুদ্দিন কাজল জানান, ঈদের পর থেকে বাজারে সবজির চাহিদা কমে গেছে, ক্রেতার সংখ্যাও অনেক কম। এসব কারণে দাম কমে এসেছে।