বিশ্ববাজারে তেলের সঙ্গে বাড়ছে খাদ্যের দাম, কী করবে বাংলাদেশ

0
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রকাশিত সূচক অনুযায়ী ভোজ্যতেল ও দানাশস্যের দাম ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আবারও বাড়তে শুরু করেছে।। ছবি: এআই জেনারেটেড প্রতীকী ছবি

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের জেরে বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই এই নতুন সংঘাত বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনকে লণ্ডভণ্ড করে দিচ্ছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ইতিমধ্যে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে এই দাম ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল কাবি।

তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কেবল জ্বালানিতে সীমাবদ্ধ নেই; এটি সরাসরি আঘাত হেনেছে বিশ্ব খাদ্য বাজারেও। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, গত পাঁচ মাস পর বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে গম, ভোজ্যতেল এবং মাংসের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। জাহাজ চলাচলের বিমা ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহারের কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় খাদ্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে।

এই বৈশ্বিক সংকটের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি ও খাদ্য আমদানিতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে গিয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের টান পড়বে। ২০২২ সালের সংকটে জ্বালানি তেলের দাম ১৩৯ ডলারে উঠলে বাংলাদেশ যে তীব্র মূল্যস্ফীতি ও রিজার্ভ সংকটের মুখে পড়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান বলেন, “রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় থেকে শুরু হওয়া উচ্চ মূল্যস্ফীতির চক্র থেকে আমরা এখনো বেরোতে পারিনি। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এটি আমাদের অর্থনীতির জন্য ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়াবে।” তিনি আরও জানান, তেলের দাম বাড়লে শিল্প উৎপাদন ও কৃষি খাতে সারের দাম বেড়ে যাবে, যা জীবনযাত্রার ব্যয়কে আরও উসকে দেবে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রবাসীদের কর্মসংস্থান ও আয় কমে যাওয়ার শঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

বর্তমান সংকট মোকাবিলায় অর্থনীতিবিদরা সরকারকে তিনটি প্রধান পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমত, জ্বালানি মজুত ও সরবরাহ নিয়ে জনগণকে সঠিক তথ্য দিয়ে অপতথ্য রোধ করা। দ্বিতীয়ত, সরকারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে যুদ্ধকালীন অর্থনৈতিক কৌশল প্রণয়নে দ্রুত বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনায় বসা। এছাড়া নিম্নআয়ের মানুষকে সুরক্ষা দিতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তারা।