বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে যশোরে ব্যবসায়ীদের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময়ের অপেক্ষা

জ্বলছে আলোকসজ্জা ও বৈদ্যুতিক সাইনবোর্ড

0
ছবি: সংগৃহীত।

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে ব্যবসায়ীরা নানামুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও তার পূর্ণ প্রতিফলন এখনো দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো মাঠ পর্যায়ে কার্যকর হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার রাতে যশোর শহরের বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, অনেক শপিংমল, বড় বিপণিবিতান এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশের দোকানগুলোতে আগের মতোই আলোকসজ্জা ও উচ্চশক্তির বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলছে। বড়বাজারের সিটি প্লাজা, জেস টাওয়ার, পাঁচফোড়নসহ মুজিব সড়ক ও কালেক্টরেট মার্কেটের বেশ কিছু দোকানে আলোকসজ্জা লক্ষ্য করা গেছে।

একই চিত্র দেখা গেছে জেল রোডের কুইন বি, জিন্স প্যান্ট অ্যাপারেলস, সুপার শপ, ভৈরব হোটেলের শাখাগুলো এবং দড়াটানা ও চিত্রা মোড় এলাকার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতে। অনেক ক্ষেত্রে দোকান বন্ধ থাকলেও বাইরের ইলেকট্রিক সাইনবোর্ডগুলো জ্বলতে দেখা গেছে। তবে পাইপপট্টি এবং আর.এন. রোডের মোটর পার্টস ব্যবসায়ীদের মধ্যে দোকান বন্ধ রাখার ক্ষেত্রে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।

ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন, সিদ্ধান্তের প্রথম দিন হওয়ায় এবং প্রচারণার অভাবে অনেক সাধারণ ব্যবসায়ী এখনো বিষয়টি পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারেননি। তবে দড়াটানার ফলের দোকান ও ওষুধের দোকানগুলোতে অতিরিক্ত আলোক ব্যবহারের বিষয়ে আরও সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সুশীল সমাজ।

যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম সোহান এ বিষয়ে ইতিবাচক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমরা বৃহস্পতিবার আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং সংশ্লিষ্ট সবার সাথে কথা বলছি। আশা করা যায়, শনিবার থেকে পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে। আসলে চাপ প্রয়োগের চেয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিই আমাদের মূল লক্ষ্য। শনিবার থেকে আমাদের বিশেষ টিম সরেজমিনে পরিদর্শন করবে এবং ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করবে।

তিনি আরও জানান, রাত ৮টার পর অপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রিক সাইনবোর্ড বন্ধ রাখার পাশাপাশি অতিরিক্ত আলোকসজ্জা সম্পূর্ণ পরিহার করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তবে জনস্বার্থে খাদ্যপণ্য, জুতা, কাপড় ও মুদি দোকানগুলো রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ সভায় নিশ্চিত করা হয়েছিল।