ঈদের পরে পেঁয়াজ কেজিতে বেড়েছে ১৫ টাকা, নতুন চালে কমলো ৪ টাকা

0

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ।। লাগাম ছাড়া দাম বাড়ছে পেঁয়াজের। ঈদের পর থেকে প্রতি কেজিতে বেড়েছে ১৫ টাকা। বাজারে নতুন দাম নির্ধারণ করা বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক হয়নি। বোরো ধানের নতুন চাল বাজারে আসায় এ সপ্তাহে সরু চালের কেজিতে কমেছে ৪ টাকা। গ্রীষ্মকালীন সবজির আমদানিও বেড়ে এ সপ্তাহে কিছুটা দাম কমেছে। এ সপ্তাহেও অপরিবর্তিত রয়েছে খামারের মুরগি, গরু-খাসির মাংস ও ডিমের দাম। রোববার যশোরের বড় বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া যায়।

ঈদের পর থেকে পেঁয়াজের দাম বেড়েই চলেছে। কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে ভাতি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা। বড় বাজার এইচ এম এম রোডের পাইকারি কাঁচামাল ব্যবসায়ী ‘নিতাই গৌর ভান্ডার’ এর অন্যতম স্বত্বাধিকারী নিতাই সাহা জানান, ফরিদপুর ও রাজবাড়ি জেলা থেকে ব্যাপারিরা ভাতি পেঁয়াজ কিনে যশোরে নিয়ে আসেন বিক্রি করতে। বর্তমানে ভাতি পেঁয়াজ পরিপুষ্ট হওয়ায় বড় ব্যবসায়ীরা হাটবাজার থেকে কিনে মজুদ করছেন। কারণ এ সময়ের পেঁয়াজ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। এসব কারণে হাটবাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি দেখা দিয়ে দাম বাড়ছে।

তবে তিনি আশা করছেন এ দাম বেশিদিন থাকবে না কমে আসবে। তবে ভোক্তারা বলছেন, শক্তিশালী সিন্ডিকেট বর্তমানে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। এ কারণে কমার পরিবর্তে দাম আরও বাড়বে।

এদিকে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানিয়েছেন, গত ১৫ এপ্রিল থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটারে ১৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটার সয়াবিন তেল কিনতে এখন খরচ হবে ১৮৯ টাকা। আগে যা ছিল ১৭৫ টাকা। পাঁচ লিটার সয়াবিন তেলের বোতলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯২২ টাকা, যা ছিল ৮৫২ টাকা। তবে রোববার বড় বাজারে মুদি দোকানগুলোতে নতুন নির্ধারণ করা দামের বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যায়নি। সয়াবিন তেলের ‘রূপচাঁদা’ ব্র্যান্ড কোম্পানির যশোর বিক্রয় প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান শাকিল জানান, রোববারই (২০ এপ্রিল) তাদের নতুন নির্ধারণ করা দামের সয়াবিন তেলের কিছু বোতল যশোরে সরবরাহ হয়ে এসেছে। তিনি আশা করছেন আগামী ৩/৪দিনের মধ্যে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

বড় বাজারে বোরো ধানের নতুন সরু চাল বাজারে এসেছে। এ কারণে দামও প্রতি কেজিতে অন্তত ৪ টাকা কমে গেছে। রোববার বাংলামতি চাল প্রতি কেজি মানভেদে ৯০ থেকে ৯২ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৯২ থেকে ৯৬ টাকা। মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ৬৪ থেকে ৭২ টাকা, যা ছিল ৬৮ থেকে ৭৬ টাকা। বিআর-৬৩ চাল বিক্রি হয়েছে ৭২ থেকে ৭৪ টাকা, যা ছিল ৭৬ থেকে ৮০ টাকা। বিআর-৪৯ চাল বিক্রি হয়েছে ৫২ থেকে ৫৪ টাকা, যা ছিল ৫৪ থেকে ৫৬ টাকা। তা ছাড়া মোটা চাল স্বর্ণার কেজিতে ২ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ টাকা ও হীরা চালে ২ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৪৭ থেকে ৪৮ টাকা। যশোর চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সুশীল কুমার বিশ্বাস জানান, বাজারে বোরো ধানের নতুন সরু চালের সরবরাহ বাড়ায় প্রতি কেজিতে অন্তত ৪ টাকা করে দাম কমে এসেছে। তিনি আরও জানান, সামনের দিনগুলোতে সরবরাহ আরও বাড়লে সরু চালের দাম আরও কমে আসবে।

বড় বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজির সরবরাহ বেড়েছে। গত সপ্তাহ থেকে বেশ কিছু সবজির দাম কমে এসেছে। রোববার উচ্ছে বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৪০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০ টাকা। পটল বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা, যা ছিল ৬০ টাকা। ঢেঁড়স বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা, যা ছিল ৬০ টাকা। কাগজি লেবুর হালি বিক্রি হয়েছে ১০ টাকা, যা ছিল ২০ টাকা। বরবটি বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা, যা ছিল ৮০ টাকা। সজনে ডাটা এ সপ্তাহেও ১২০ টাকা দর রয়েছে। তবে শসার কেজিতে গত সপ্তাহ থেকে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকা, ভালোমানের কাঁটা বেগুন ৮০ টাকা ও সাধারণ বেগুন বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকায়। পাইকারি কাঁচামাল ব্যবসায়ী বড় বাজার এইচ এম এম রোডের ‘আরিফ ভাণ্ডার’ এর দুই অংশীদার মো. শাহাবুদ্দিন ও সুজিত কাপুড়িয়া বাবলু জানান, বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ছে। গত সপ্তাহ থেকে সবজির দাম বেশ খানিকটা কমে এসেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সামনের দিনগুলোতে আরও দাম কমে আসবে।

অপরদিকে এ সপ্তাহেও বড় বাজারে খামারের মুরগি,ডিম,খাসির মাংস ও গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। রোববার খামারের ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৮০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৩০ টাকা ও দেশি মুরগি ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। আর খামারের মুরগির লাল ডিম প্রতি পিস সাড়ে ১০ টাকা ও সাদা ডিম প্রতি পিস ১০ টাকা করে বিক্রি হয়েছে। মুরগি বিক্রেতা আবুল হাশেম জানান, ঈদের পর থেকে বাজারে মুরগির চাহিদা কমে গেছে। এ কারণে দামও সহনীয় পর্য়ায়ে রয়েছে। এছাড়া খাসির মাংস প্রতি কেজি ১২শ টাকা ও গরুর মাংস প্রতি কেজি সাড়ে ৭শ টাকা দর অপরিবর্তিত রয়েছে।