বিশ্ববাজারে তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি, ওয়ালস্ট্রিটে ধসের আভাস

0
হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলা ও ইরানের অবরোধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দামে রেকর্ড উল্লম্ফন। ওয়ালস্ট্রিট ও ইউরোপীয় বাজারে ধসের আভাস।। ছবি: সংগৃহীত

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহতের জেরে পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাবে সোমবার (২ মার্চ) বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জাহাজ চলাচলে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি এবং বাণিজ্যিক ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) জানিয়েছে, ওমান উপসাগর ও আরব উপসাগরীয় এলাকায় অন্তত তিনটি জাহাজে অজ্ঞাতনামা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি জাহাজে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী তিনটি ট্যাংকারে সফল হামলা চালিয়েছে। এই উত্তেজনার ফলে বৈশ্বিক তেলের প্রায় ২০ শতাংশ যে পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৫০টি তেলবাহী ট্যাংকার বর্তমানে সাগরে নোঙর ফেলে অপেক্ষা করছে।

প্রতিবেদনটি লেখার সময় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৪.৮৪ শতাংশ বেড়ে ৭৬.৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এশিয়ান সেশনে এই দাম এক পর্যায়ে ১০ শতাংশের বেশি বেড়ে গিয়েছিল। বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, যদি হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তবে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক পুঁজিবাজারে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই ওয়ালস্ট্রিটের ফিউচার সূচকে বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে। ডাও জোনস, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং নাসডাক কম্পোজিট ফিউচার প্রায় ১ শতাংশ করে কমেছে। ইউরোপের বাজারেও জার্মানির ড্যাক্স ও ইউরোস্টক্স ফিউচার সূচক ১ শতাংশের বেশি নিচে নেমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বিবেচনায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত তাদের শেয়ারবাজারে লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে।

পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ‘ওপেক’ দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত তেল উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজারের এই অস্থিরতা কমার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ডেনমার্কভিত্তিক শিপিং জায়ান্ট ‘মেয়ার্সক’ ইতিমধ্যেই সুয়েজ খাল ও বাব এল-মান্দেব প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে (উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে) জাহাজ চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বৈশ্বিক পণ্য পরিবহন খরচ আরও বাড়িয়ে দেবে।