চৌগাছায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হত্যায় ‘নিরপরাধ’দের ফাঁসানোর অভিযোগ

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের চৌগাছায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো. শাহিন হত্যা মামলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত নিরপরাধ ব্যক্তিদের আসামি করে হয়রানি করার অভিযোগ তুলেছেন চৌগাছা পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর মো. মোবারক হোসেন।

রোববার (১ মার্চ) দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোবারক হোসেন জানান, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি চৌগাছার কুঠিপাড়া মোড়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো. শাহিন।

পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ফাহিমা আক্তার মুক্তা বাদী হয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি চৌগাছা থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

বিএনপি নেতার দাবি, এই মামলায় তার নিজের সন্তান ও ভাইপোসহ পরিবারের ৬ সদস্য এবং ৫ জন প্রতিবেশী কর্মীকে আসামি করা হয়েছে, যারা সকলেই বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি অভিযোগ করেন, মামলার বাদী ও তার পরিবার প্রতিহিংসা বশত এবং তাদের পরিবারকে নিঃস্ব করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলায় নিরাপদ মানুষকে জড়িয়ে প্রকৃত দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে দীর্ঘ ২৭ বছর আগের এক হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে মোবারক হোসেন বলেন, ১৯৯৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তার বড় ভাই সাবেক ইউপি সদস্য শহীদ মকবুল হোসেনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছিল ‘কিং মমিন-শামীম বাহিনী’র প্রধান মমিন।

মমিন বর্তমানে ওই মামলায় জেল হাজতে রয়েছেন এবং নিহত শাহিন ছিলেন এই দণ্ডপ্রাপ্ত মমিনের আপন ছোট ভাই। ২৭ বছর আগের সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই এখন তার সন্তানদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

মোবারক হোসেন বলেন, নিহত শাহিন ও আমার ভাই দুজনেই দিনের আলোতে হামলার শিকার হয়েছেন। অপরাধীদের চিনতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমরাও চাই শাহিন হত্যার সুষ্ঠু বিচার হোক, কিন্তু বিচারের নামে যেন কোনো নিরপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার না হয়।

তিনি এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।