শংকরপুরে আলমগীর হত্যা মামলা মিশনে অংশ নেওয়া ১৭ মামলার আসামি মনিরুল আটক

আদালতে স্বীকারোক্তি

0
আটক মনিরুল ইসলাম।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরের শংকরপুরের বাসিন্দা ও পৌরসভার ৭ নম্বর ওযার্ড বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর হোসেন হত্যা মিশনে অংশ নেওয়া মনিরুল ইসলাম নামে আরেক সন্ত্রাসীকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। গত শনিবার সন্ধ্যায় শহরতলীর ঝুমঝুমপুর শিক্ষক পাড়া থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

আটক মনিরুল ইসলাম শহরের ষষ্ঠীতলা বসন্ত কুমার রোডের আব্দুল খালেকের ছেলে। বর্তমানে ঝুমঝুমপুর শিক্ষক পাড়ার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন তিনি।

মামলা ও ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জানুয়ারি রাতে যশোর শহরের শংকরপুর ইসহাক সড়কে আলমগীর হোসেন চলন্ত মোটরসাইকেলে থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তরা ফিল্ম স্টাইলে গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করেন।

হত্যাকারীরাও ৩টি মোটরসাইকেলে ছিলেন। নিহত আলমগীর হোসেন শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার ইন্তাজ চৌধুরীর ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামীমা জামাই পরশ ও একই এলাকার সাগরের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে পরশ ও সাগরকে আটক করে।

পরবর্তীতে ডিবি পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে মূল হত্যাকারী হিসেবে বেজপাড়ার ত্রিবিদ ওরফে মিশুককে আটক করে। আটকের পর মিশুককে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। পরে তার জবানবন্দিতে প্রকাশ পাওয়া হত্যা মিশুনে অংশ নেওয়া শাহীন কাজী নামে এক সন্ত্রাসীকে শহরের লোনঅফিস পাড়া থেকে আটক করে ডিবি পুলিশ।

শাহীন কাজী শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া তুলোতলা এলাকার কিসলু কাজীর ছেলে। শাহীন কাজীকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনিও ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূক জবানবন্দি প্রদান করেন। তার জবানবন্দিতে হত্যা মিশনে অংশ নেওয়া মনিরুল ইসলাম নামে ওই সন্ত্রাসীর নাম প্রকাশ পায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই অলোক কুমার দে জানান, গত শনিবার সন্ধ্যায় তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঝুমঝুমপুর শিক্ষক পাড়া থেকে আটক করেন মনিরুল ইসলামকে। পরে তার স্বীকারোক্তিতে একই এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুজুকি মোটরসাইকেল।

তিনি বলেন, রোববার আটক মনিরুল ইসলামকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আসমি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাকিব আহম্মেদ ইমন তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

জবানবন্দিতে মনিরুল ইসলাম হত্যা মিশনে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেছেন, মিশুক একটি যন্ত্র দিয়ে আলমগীরকে গুলি করেন। পরে ওই যন্ত্রটি ভাইপো রাকিবের কাছে দিয়ে দেন মিশুক।

ডিবি পুলিশ জানায়, আটক মনিরুল ইসলাম একজন কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মোট ১৭টি মামলা রয়েছে।