চৌগাছায় বৃদ্ধি পেয়েছে গমের চাষ ভালো ফলনের আশা চাষিদের

0
ছবি: লোকসমাজ।

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ চৌগাছায় আবারও গম চাষ শুরু হয়েছে। ফাগুনের মৃদু বাতাসে দুলে যাচ্ছে গমের শীষ, যা মনোমুগ্ধকর এক পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোাগ দেখা না দিলে গমের ভালো ফলনের আশা করছেন চাষিরা।

আশির দশকে চৌগাছায় ধান,পাট,গম, ছোলা ও মসুরির ব্যাপক চাষ হতো। কিন্তু সময়ের সাথে অনেক কিছু পাল্টে গেছে। পাল্টে গেছে কৃষকের চাষেরও ধরন। সে কারণে গম চাষ কৃষক এক প্রকার ছেড়েই দিয়েছেন। বিশেষ করে গমে ব্লাস্ট ভাইরাস দেখা দেওয়ায় মারাত্মক ক্ষতিতে পড়েন চাষিরা। সে কারণে গম চাষের পরিবর্তে তারা অন্য ফসল চাষে ঝুঁকে পড়েন। বছরের পর বছর এ অবস্থা চলতে থাকলেও ধীরে ধীরে কৃষক আবারও গম চাষে মনোযোগী হয়ে উঠেছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলাতে ২৮৫ হেক্টর জমিতে গমের চাষ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩৫ হেক্টর বেশি জমিতে কৃষক গম চাষ হয়েছে। মাটির গুনাগুন ভেদে বারী-৩০,৩২ ও ৩৩ জাতের গমের চাষ বেশি হচ্ছে। তবে ৩৩ জাতের গম ব্লাস্ট ভাইরাস প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি, সে কারণে কৃষক ৩৩ জাতের গমের চাষ বেশি করেছেন।

ছবি: লোকসমাজ।

সোমবার উপজেলার জগদীশপুর, ফুলসারা ও সিংহঝুলী ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রামের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে প্রতিটি মাঠেই কমবেশি চাষ হয়েছে গমের। এখন গমের শীষ বের হচ্ছে, বর্তমান আবহাওয়া গমের জন্য খুবই উপযোগী বলছেন চাষিরা।

কৃষকরা জানান, ৮০/৯০ দশকে চৌগাছার বিস্তৃীর্ণ মাঠ ছিলো গমের দখলে। মৌসুম শুরু হলে কৃষক অন্য ফসলের চাষ না করলেও গমের চাষ করতেন। এরপর শুরু সবজি ও ইরি বোরো ধানের চাষ, কোণঠাঁসা হয়ে পড়ে গম চাষ। বহু কৃষক গমের পরিবর্তে সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েন, অনেকেই শুরু করেন বোরো চাষ। ২০০০ সালের পর গমের চাষ বহু কমে যায়। কম বেশি যারা চাষ করেন তারা নানা সমস্যায় পড়তে থাকেন।

এরপর হঠাৎ করে পরপর ২ বছর গমে দেখা দেয় ভাইরাস ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষক। তবে সম্প্রতি ৩/৪ বছর আবারও গমের চাষ বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ বাজার দর ভালো ও ভাইরাসে আক্রান্ত না হওয়া এমনই মনে করছেন চাষিরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন বলেন, গম চাষ বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা খুবই কম এবং বাজারে চাষিরা ভালো মূল্য পাওয়া। আমরা কৃষি অফিস গম চাষিসহ সব চাষিদের সর্বদা সহযোগিতা করে যাচ্ছি।