সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন লড়াই; ৩৭ আসনে শতাধিক নেত্রীর দৌড়ঝাঁপ

0
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে এগিয়ে যারা।। ছবি: সংগৃহীত

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর এবার সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক তৎপরতা। প্রাপ্ত সাধারণ আসনের আনুপাতিক হারে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাগে সংসদীয় ৫০টি আসনের মধ্যে ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন আসতে পারে। এই আসনগুলোতে দলীয় মনোনয়ন পেতে এখন পর্যন্ত শতাধিক নেত্রী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) রমজান মাসের মধ্যেই এই নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়ায় রাজধানীর নয়াপল্টন ও গুলশান কার্যালয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ভিড় ও লবিং এখন তুঙ্গে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত দীর্ঘ সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথের সক্রিয়তা, জেল-জুলুম সহ্য করা নেত্রী এবং পেশাগত জীবনে সফল ব্যক্তিত্বদের এবার প্রাধান্য দেওয়া হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, “দলের প্রতি ত্যাগ, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সংসদ পরিচালনায় মেধার স্বাক্ষর রাখতে পারবেন এমন নেত্রীদেরই বেছে নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে প্রবীণ ও নবীনদের একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমন্বয় থাকবে।”

সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের দৌড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান এবং মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। এছাড়া তালিকায় জোরালোভাবে নাম রয়েছে মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সহ-সভাপতি হেলেন জেরিন খান, সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আকতার, নিলোফার চৌধুরী মনি, আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আকতার রানু, বিলকিস ইসলাম, নাসিমা আক্তার কল্পনা ও জাহান পান্না।

বিগত বছরগুলোতে রাজপথে সাহসিকতার পরিচয় দেওয়া নেত্রীদের মধ্যে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেত্রী শিরিন সুলতানা, নাজমুন নাহার বেবী, ইয়াসমিন আরা হক ও ফরিদা ইয়াসমিন মনোনয়নের দৌড়ে বেশ এগিয়ে আছেন। বিশেষভাবে আলোচনায় আছেন গুম হওয়া নেতাকর্মীদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি এবং নির্যাতিত কর্মীদের পাশে থাকা ‘অর্পণ আলোক সংঘ’-এর বীথিকা বিনতে হুসাইন।

সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে এবার বড় চমক আসতে পারে। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভীন ও কনক চাঁপার নাম তালিকায় বেশ গুরুত্বের সাথে আলোচিত হচ্ছে। এছাড়া সাংবাদিক প্রতিনিধি হিসেবে শাহনাজ পলি এবং পেশাজীবীদের মধ্য থেকে সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ-এর নামও রয়েছে সম্ভাব্য তালিকায়।

আগামীর রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম এমন একঝাঁক তরুণ নেত্রীর নামও হাইকমান্ডের বিবেচনায় রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন— ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, তানজিন চৌধুরী লিলি, নাদিয়া পাঠান পাপন, নিয়াজ হালিমা আর্লি, রাবেয়া আলম, জেবা আমিন খান, শাহানা আকতার সানু, শাহিনুর সাগর, আরিফা সুলতানা রুমা, সামিরা তানজিনা চৌধুরী ও সৈয়দা আদিবা হোসেন।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, সাধারণ নির্বাচনের ফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন সম্পন্ন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কমিশন চায় ঈদের আগেই ভোটগ্রহণ শেষ করতে। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা নির্ধারণে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই শেষ কথা হিসেবে গণ্য হবে।