যশোরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের কাছে পিতার গড়া স্কুলের উন্নয়ন চাইলেন প্রধান শিক্ষক

0
বাজুয়া ডাঙায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে উলুধ্বনি ও পুষ্পবৃষ্টিতে সিক্ত হচ্ছেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।। ছবি: লোকসমাজ

স্টাফ রিপোর্টার ।।

পিতা সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের হাতে গড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মোবারককাটি শ্রীকান্তনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন করে উন্নয়ন চাইলেন ছেলে যশোর – ৩ ( সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের কাছে। শনিবার তৃতীয় দিনে সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে সতীঘাটা বাজারে পথ সভায় অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের কাছে এই দাবি করেন দীর্ঘ ১৭ বছরের অবহেলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক রাহাত আলী।

শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রামনগর ইউনিয়নে গণসংযোগ করেন। এ সময় এলাকাবাসী পথে পথে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে কেউ ধানের শীষের তোড়া দিয়ে আবার কেউবা ফুল ছিটিয়ে বরণ করেন। আবার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উলুধ্বনি দিয়ে বরন করেন। মাঠের ব্যস্ত কৃষকরাও অমিতকে দেখতে পেয়ে ছুটে এসে হাত মিলিয়ে অভিবাদন জানান। এভাবে দিনভোর এলাকার আবাল বৃদ্ধ বনিতা সকলের ভালোবাসায় সিক্ত হন। এলাকা বাসীও ধানের শীষের প্রতি তাদের সর্বোচ্চ আবেগ এবং অনুভূতি প্রকাশ করেন।

প্রধান শিক্ষক রাহাত আলী বলেন, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম স্কুল টি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসনামলে প্রতিষ্ঠানটি উন্নয়ন বঞ্চিত। যত বারই আমি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন চেয়েছি, তত বারই বঞ্চিত করা হয়েছে। তরিকুল ইসলামের হাতে গড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলে কোন উন্নয়ন করেনি আওয়ামী লীগ সরকার। ভবনের অভাবে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পাঠদান কক্ষ না থাকায় ছাত্র ছাত্রীরা ভর্তি হতে চায় না।

খরিচাডাঙ্গা গ্রামের দুলাল সমাদ্দার অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে উদ্দেশ্য করে বলেন এই এলাকায় জিয়া খাল রয়েছে। খালটি সংস্কারের অভাবে মরা খালে পরিণত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক জলাবদ্ধতার হাজার হাজার বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ হয় না। আপনি আগামী দিনে সুযোগ পেলে জিয়া খনন করবেন।

শিক্ষক রাহাত আলীর মতো কানাইতলার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম, সতীঘাটার গৃহবধূ রোকসানা খাতুন, সিরাজ সিঙ্গা তরফদার পাড়ার বাসিন্দা সরোয়ার হোসেন বলেন, আপনার পিতা এই অঞ্চলে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছিলেন। তিনি এলাকার রাস্তা ঘাটের অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছিলেন। এরপর এলাকায় নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি। রাস্তা ঘাটের কোন উন্নয়ন হয়নি। আমরা উন্নয়ন বঞ্চিত অবহেলিত জনপদের মানুষ। আপনি আগামী দিনে সুযোগ পেলে পিতার উন্নয়নের ধারা ফিরিয়ে এনে অবহেলিত রামনগরের উন্নয়ন করবেন।

পরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বাজুয়া ডাঙায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং বক্তব্য রাখেন । এ সময় স্থানীয় মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ বাপি ভদ্র বলেন, আমরা এমন একটি পরিবেশ চাই যেখানে হিন্দু মুসলিম মিলে মিশে একসাথে বসবাস করতে পারবো। গেল ৫ আগস্টের আপনি এবং আপনার দলের নেতাকর্মীরা যে ভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জানমাল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপসনালয়ের সুরক্ষা দিয়েছেন। আগামী দিনে আমাদের জন্য এমন নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবেন।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আন্তরিকতার সাথে তাদের প্রত্যাশার কথা শোনেন এবং বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন পিতার মতো আমি সুযোগ পেলে পিতার উন্নয়নে ধারা ফিরিয়ে আনবো। বিশেষ বরাদ্দ এনে সমগ্র রামনগর ইউনিয়নের উন্নয়ন করবো।
জিয়া খাল খনন করে এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করবো।

মানুষের জীবন মান উন্নয়নে রাজনীতি করি। মানুষকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করি। সমাজে সাম্য, মানবিক, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতি করি। একজন প্রকৃত রাজনীতিবিদের উদ্দেশ্য হলো মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করা। আমার পিতা তরিকুল ইসলাম যখনই সুযোগ পেয়েছেন, তখনই তিনি আপনাদের এই এলাকার রাস্তা ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরের উন্নয়ন করেছেন। উনার পরে এই এলাকার উন্নয়নে কেউ কাজ করেনি। আমি সকাল থেকে আপনাদের এই এলাকায় বিভিন্ন গ্রামে গিয়েছি। কিন্তু সড়ক ব্যবস্থা এতটাই নাজুক এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আগামী দিনে আপনারা সুযোগ দিলে অবহেলিত রামনগরের উন্নয়ন করবো।

তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্য বলেন, আপনারা নিজেরদের দুর্বল ভাববেন না। আওয়ামী লীগ আপনাদেরকে তাদের সম্পত্তি হিসেবে ভোগ দখল করেছিল। কিন্তু আমরা আপনাদেরকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করি। তরিকুল ইসলামের সন্তান হিসেবে এই মাটিতে আমার যতখানি অধিকার রয়েছে, আপনাদের সন্তানদেরও ঠিক ততখানি অধিকার রয়েছে। ধর্মের কথা বলে মানুষের মধ্যে বিভেদ রেখা টানা ধর্মের কাজ না। ধর্ম ব্যবসায়ীরা ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষের মধ্যে বিভেদ রেখা টানে। এই ভূখন্ডে বসবাসকারী সকলের একটি পরিচয় আমরা বাংলাদেশী। এখানে হিন্দু মুসলিম কিংবা ধনী গরীবের মধ্যে কেউ ব্যবধান সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে তার জায়গা এই সমাজে হবে না

রাজারহাট বাজারের গণসংযোগের মধ্য দিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। সিরাজ সিঙ্গা ইউনুসের মোড়, কামালপুর, পান্তাপাড়া, ভাটাপাড়া, মোবারকাটি শ্রীকান্ত নগর, কাজীপুর ক্লাব মোড়, কাজীপুর পূর্ব পাড়া এলাকায় নির্বাচনী পথ সভায় বক্তব্য রাখেন। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং আগামী দিনে তাদের জন্য বিএনপির কর্ম পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলু, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক আব্দার হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, আশরাফুজ্জামান মিঠু প্রমুখ।