মৃত পিতার দাফনে হেলিকপ্টারে এলেন আমেরিকা প্রবাসী

0

বাগআঁচড়া (শার্শা) সংবাদদাতা॥ যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের উজ্জ্বলপাড়া গ্রামে গতকাল পিতার দাফনে অংশ নিতে হেলিকপ্টারে উড়ে এলেন ছেলে।

স্ট্রোকজনিত কারণে সোমবার মৃত্যুবরণ করেন এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি আলহাজ দিসারত উদ্দীন (৭০)। পিতার মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাজার মাইল দূরে অবস্থানরত আমেরিকাপ্রবাসী সন্তান আসাদুজ্জামান লিটন পিতার মুখ শেষবারের দেখতে রওনা হন। গতকাল সকালে তিনি ঢাকায় পৌঁছান এবং দুপুরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে করে সরাসরি নিজগ্রামের বাড়িতে আসেন।

গ্রামবাসী জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে আমেরিকায় কর্মরত লিটন সম্প্রতি দেশে এসে বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কিছুদিন কাটিয়ে আবার ফিরে যান। কিন্তু নিয়তি আর সময় দেয়নি, ফিরে এসেছেন বাবার নিথর দেহের কাছে।

সোমবার ভোরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে আলহাজ দিসারত উদ্দীনকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে, চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রবাসী সন্তানের শেষদেখা পাওয়ার আশায় মরদেহ লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে সংরক্ষণ করে রাখা হয়।

মরহুমের ঘণিষ্ঠ বন্ধু আমজাদ হোসেন গাজী বলেন, লিটনের একটাই চাওয়া ছিল- শেষবার বাবার মুখটা দেখা। সেই ভালোবাসার টানেই সে রাতারাতি রওনা দেন।

গ্রামে পৌঁছে বাবার জানাজায় অংশ নেন লিটন এবং নিজহাতে দাফন সম্পন্ন করেন। সেই দৃশ্য দেখে অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

এদিকে, মরহুমের জানাজা নামাজ জোহর বাদ বাগআঁচড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন যশোর-১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, শংকরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ নিছার উদ্দীন, শার্শা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মোনায়েম হোসেন, বিএনপি নেতা আক্তার হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে—প্রবাসে থাকলেও সন্তানের হৃদয়ের সবচেয়ে গভীর জায়গায় থাকেন বাবা। দূরত্ব হতে পারে হাজার মাইল, কিন্তু বাবা-সন্তানের ভালোবাসার দূরত্ব কখনো হয় না