বাড়ল চাল ও সবজির দাম ধরাছোঁয়ার বাইরে ইলিশ

0
ধরাছোঁয়ার বাইরে ইলিশ। ছবি: সংগৃহীত।

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ বাজারে সরু চালের দাম বেড়েছে। ভরা মৌসুমেও বেড়েছে সবজির দাম। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এদিকে এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে ইলিশ। তবে এ সপ্তাহে অপরিবর্তিত রয়েছে ডিম ও মুরগির দাম। রোববার যশোর শহরের বড় বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

এ সপ্তাহে প্রতি কেজি সরু চালে ২ টাকা বেড়েছে। রোববার বড় বাজার চালবাজারে বাংলামতি চাল বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি মানভেদে ৭৮ খেকে ৮০ টাকা, যা বিক্রি হচ্ছিল ৭৬ থেকে ৮০ টাকা। মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬২ থেকে ৬৪ টাকা, এর আগে বিক্রি হচ্ছিল ৬০ থেকে ৬৪ টাকা। বিআর-২৮ ধানের চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৬০ টাকা, এর আগে বিক্রি হচ্ছিল ৫২ থেকে ৫৮ টাকা। বিআর-৬৩ চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৪ থেকে ৬৮ টাকা, এর আগে বিক্রি হচ্ছিল ৬৪ থেকে ৬৬ টাকা। নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৮ থেকে ৮০ টাকা, যা এর আগে বিক্রি হচ্ছিল ৭৪ থেকে ৭৬ টাকা। কাজললতা চাল বিক্রি হচ্ছে ৬২ টাকা, এর আগে বিক্রি হচ্ছিল ৬০ টাকা। তাছাড়া নতুন আমন ধানের বিআর-৪৯ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা ও বিআর-১০ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮ টাকা দরে। আর মোটা স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকা।

যশোর বড় বাজার চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সুশীল কুমার বিশ্বাস জানান, বোরো ধানের চালের মজুত শেষ হয়ে এসেছে, এ কারণে সরু চালের দাম বেড়েছে। এখন বোরো ধান না ওঠা পর্যন্ত সরু চালের দাম আর কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।

এদিকে সরবরাহ কমে ভরা মৌসুমেও বাজারে শীতকালীন সবজির দাম চলতি সপ্তাহে বেড়েছে। যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা ইউনিয়নের কোমলপুর গ্রামের চাষি মো. হুমায়ুন কবির লোকসমাজকে জানান, গত কয়েকদিনের প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশায় ফুলকপি, শিম,কাঁচা মরিচসহ বেশ কিছু সবজির ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়া তীব্র শীতের কারণে চাষিরা ক্ষেত থেকে ফসল তোলা কমিয়ে দিয়েছেন। এসব কারণে বাজারে সবজির ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

বড় বাজার এইচ এম এম রোডের খুচরা সবজি বিক্রেতা মো.রিপন জানান,ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ২০ টাকা। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৬০ টাকা। শিম ৪০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৩০ টাকা। বাঁধাকপি ২০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ১৫ টাকা। তাছাড়া এ সপ্তাহে অপরিবর্তিত দামে বিক্রি হচ্ছে বেগুন প্রতি কেজি ৫০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, টমেটো ৬০ টাকা, মুলো ৩০ টাকা, পালংশাক ২৫ টাকা, বিটকপি ৪০ টাকা, মেটেআলু ৮০ টাকা ও মটরশূঁটি ১০০ টাকা দরে।

বাজারে আলু ও পেঁয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। বড় বাজার এইচ এম এম রোডের খুচরা বিক্রেতা বিকাশ সাহা জানান, সাদা ও লাল আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০ টাকা ও নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা।

এদিকে এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে ইলিশ মাছ। রোববার বড় বাজার মাছবাজারের খুচরা বিক্রেতা মো. ইকরাম বিশ্বাস জানান, এক কেজি ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার টাকা, ৮শ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ৩৫শ টাকা ও ৪/৫শ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ২৬শ টাকা। তিনি আরও জানান বাজারে ইলিশের সরবরাহ খুবই কম।

তবে বাজারে প্রচুর সরবরাহ রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের। ক্রেতা চাহিদা বেশি থাকায় এসব মাছ বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। রোববার খুচরা মাছ বিক্রেতা তরিকুল ইসলাম,আনিসুর রহমান ও মৃত্যুঞ্জয় জানান, দেশি কৈ ১৫ টায় কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকা, বাইম ১ হাজার টাকা, গলদা চিংড়ি ৮টায় কেজি ৮৫০ টাকা, পারসে কেজি ৮শ টাকা, রয়না ১ হাজার টাকা, বোয়াল ৬/৭ শ টাকা, শোল ৭শ টাকা, দেড় কেজি ওজনের ভেটকির কেজি ৬৫০ টাকা,পুটি ৩/৪শ টাকা,পাঙ্গাশ ২৫০ টাকা, এক কেজি ৭শ গ্রাম ওজনের নাইলোটিকার কেজি ২৫০ টাকা,এক কেজি ওজনের রুই ২৫০ টাকা ও কাতলা ২৫০ টাকা।

এ সপ্তাহে অপরিবর্তিত রয়েছে খামারের মুরগি ও ডিমের দাম। বড় বাজার মুরগির বাজারে খুচরা বিক্রেতা মো. মিলন জানান, রোববার ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৭০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৫০ টাকা ও লেয়ার মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩শ টাকায়। এদিকে বাজারে খামারের মুরগির ডিম বিক্রি হয়েছে প্রতি পিস ৯ টাকায়।