যশোরের আলোচিত ২৬ মামলার আসামি সাগর খুলনায় সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত

0
নিহত সন্ত্রাসী সাগর শেখ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ২৬ মামলার আসামি যশোরের আলোচিত সন্ত্রাসী সাগর শেখ গত রোববার রাতে খুলনার রূপসায় গুলিতে নিহত হয়েছেন। তিনি কয়েক বছর ধরে রূপসা এলাকায় বাড়ি বানিয়ে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন।

কিন্তু কে কারা কীজন্যে তাকে গুলি করে হত্যা করেছে তা রূপসা থানার পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে নিহতের এক ভাই আশরাফুল এই হত্যাকাণ্ডের জন্য যশোরের আলোচিত ৫ সন্ত্রাসীকে দায়ী করেছেন।

রূপসা থানা পুলিশের ওসি আব্দুর রাজ্জাক মীর জানান, গত রোববার রাতে রূপসা সেতুর পূর্ব পাশের জাপুসা চৌরাস্তার পূর্বে পাশে গুলিতে নিহত হন সাগর শেখ নামে ওই যুবক। গোলাগুলির শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে মোবাইল ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে ৯৯৯ নম্বর থকে পুলিশকে ঘটনাটি অবহিত করা হয়।

এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ দেখতে পাওয়া যায়, সাগরের মাথায় একটি এবং হাঁটুতে অপর একটি গুলি লেগেছে।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে নিহত ব্যক্তি ওই এলাকায় জমি কিনে নতুন বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। তবে কারা এবং কী কারণে তাকে হত্যা করেছে সেই বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জানা গেছে, তিনি এর আগে যশোরে অবস্থান করতেন।

যশোর শহরের রেলগেট খড়কি এলাকার একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত সাগর শেখের পিতার নাম ফায়েক শেখ। তাদের আসল বাড়ি গোপালগঞ্জে। তবে তারা দীর্ঘদিন ধরে যশোর শহরের রেলগেট পশ্চিম পাড়া কলাবাগান এলাকায় রেললাইনের সরকারি জায়গায় ঘর বানিয়ে সেখানে থাকতেন। কয়েক বছর আগে সাগর শেখসহ পিতামাতাসহ যশোর ছেড়ে চলে যান।

যশোরে থাকাকালীন সাগর শেখ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের অনুসারীয় ষষ্ঠীতলার আলোচিত ম্যানসেলের সহযোগী ছিলেন সাগর শেখ ও তার ভাই রমজান শেখ। পরে নানা কারণে বনিবনা না হওয়ায় দুই ভাই ম্যানসেলের সঙ্গ ত্যাগ করেন।

এ নিয়ে ম্যানসেলের সাথে তাদের দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো। এরই মধ্যে ২০২৪ সালের মার্চে রেলগেট পশ্চিম পাড়ায় শ্বশুরবড়ির কাছে সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের কোপে নিহত হন রমজান শেখ। তার বিরুদ্ধেও ৩২টি মামলা ছিলো। রমজান শেখ হত্যার ঘটনায় তার মা রেখা খাতুন ওই এলাকার কয়েকজন সন্ত্রাসীর নাম উল্লেখ করে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন।

এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আসামি হলেন, রেলগেট ডালমিল এলাকার ভাগ্নে ইমন, কুদরত, রেলগেট পশ্চিম পাড়ার পিচ্চি রাজা, তুহিন, চাঁচড়া রায়পাড়া পলেথিন বাবু, রেলস্টেশন এলাকার মেহেদি, বেজপাড়া টিবি ক্লিনিক এলাকার ট্যাটু সুমন প্রমুখ। মামলাটি দেখভাল করতেন সাগর শেখ। এ কারণে ওই মামলার আসামিরা তার উপর ক্ষিপ্ত ছিলো।

স্বজনদের অভিযোগ, গত ১৬ মে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে খুলনার রূপসা এলাকা থেকে সাগর শেখকে আটক করে। পরে তাকে যশোর কোতয়ালি থানায় সোপর্দ করে। এরপর কয়েক মাস কারাগারে থাকার পর আদলত থেকে জামিনে মুক্তি পান সাগর শেখ। পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলায় যশোরের আদালতে হাজিরা দিতে এলে রমজান শেখ হত্যা মামলার আসামিরা তাকে কয়েকবার আক্রমণের চেষ্টা করে। কিন্তু কৌশলে চলে আসার কারণে প্রাণে রক্ষা পেয়ে যান সাগর শেখ।

নিহত সাগর শেখের আরেক ভাই আশরাফুল অভিযোগ করেন, তার ভাই হত্যার জন্য ম্যানসেল, পলিথিন বাবু, তুহিন, পিচ্চি রাজা ও কুদরত দায়ী। রমজান খুনের প্রতিবাদ করেছিলেন সাগর শেখ। এ কারণে তারা তার ভাই সাগর শেখকে হত্যার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিতেন। উল্লেখ্য, আশরাফুলের অভিযোগের একটি ভিডিও যশোরের একটি অনলাইন পোর্টালে দেওয়ায় ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পলিথিন বাবুর বিরুদ্ধে ২টি হত্যা ও ১টি অস্ত্র আইনের মামলা, কুদরতের বিরুদ্ধে ২৯টি মামলা, পিচ্চি রাজার বিরুদ্ধে ২ ডজন মামলা, তুহিন ও ম্যাসলেনের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।