মণিরামপুরের ভ্যানচালক মিন্টুর খুনিদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার হাকোবা গ্রামের ভ্যানচালক মিন্টু হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি বড় সাব্বিরসহ খুনের সাথে জড়িত সকলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে এবং আসামিদের অব্যাহত হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে নিহতের পরিবার।

মঙ্গলবার সকালে প্রেস ক্লাব যশোরের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে নিহতের শ্যালক সুমন রহমান বলেন, মিন্টু হত্যার প্রধান আসামি স্থানীয় একটি রাজনৈতিক নেতার ভাইয়ের অনুসারী। ইতিমধ্যে ওই রাজনৈতিক দলের নেতার ভাই মামলা প্রত্যাহারের জন্য মামলার বাদী মিন্টুর বৃদ্ধা মাতা আমেনা বেগমসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের অব্যাহতভাবে হুমকি দিচ্ছে।

তিনি বলেন, গত পরশু গভীর রাতে সন্ত্রাসীরা আমার বোনের বাড়িতে গিয়েও ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। মামলার এজাহার থেকে প্রধান আসামি বড় সাব্বির হোসেনের পিতার নামও পরিবর্তন করা হয়েছে।

নিহতের স্ত্রী জেসমিন বলেন, ‘স্বামী হত্যা পরও আমার দুই শিশু সন্তানসহ পরিবারের সকল সদস্য আতঙ্কের মধ্যে আছি। আমার স্বামী হত্যার প্রধান আসামি বড় সাব্বির হোসেন এলাকায় প্রভাবশালীদের অনুসারী। তারা মামলা প্রত্যাহারের জন্য কখনো আমাকে এবং আমার বৃদ্ধ শ্বশুর শাশুড়িকে বিভিন্ন সময় হুমকি দিচ্ছে। গভীর রাতে তারা আমাদের বাড়ি আশাপাশে ঘোরাফেরা করছে। মামলা প্রত্যাহার না করলে তারা আমার এবং সন্তানদের বড় ধরণের ক্ষতি করার হুমকি দিচ্ছে।’

মানববন্ধনে নিহতের মা আমেনা বেগমও কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে আমি মা হয়ে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি। ছেলে হত্যার ঘনটায় আমি বাদী হয়ে মামলা করায় আমিও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। মামলা প্রত্যাহারের জন্য তারা আমাকে নানাভাবে হুমকি ধামকির মধ্যে রেখেছে।’

মানববন্ধনের নিহত মিন্টু হোসেনের ভাই সেন্টু হোসেন বলেন, ‘সন্ত্রাসী সাব্বির হোসেন আমাকেও কুপিয়ে জখম করে। আমি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। এখন বাড়ি ফিরেও নিরাপদ নই। মামলা প্রত্যাহার না করলে তারা আবার আমাদের বড় ধরণের ক্ষতি করতে পারে। আসামিরা কারাগারে থাকলেও তাদের লোকজন আমাদেরকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দিচ্ছে।’

উল্লেখ্য, গত ২৮ আগস্ট চাঁদা না দেওয়ায় সন্ত্রাসী বড় সাব্বিরের নেতৃত্বে মিন্টু হোসেনসহ পরিবারের পাঁচজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুর জখম করা হয়। একদিন পর মিন্টু হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মৃত্যুবরণ করেন।