যশোরে মানবপাচার মামলায় দম্পতির ৫ বছর কারাদণ্ড

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের একটি মামলায় এক দম্পতিকে ৫ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছে আদালত। একই সাথে তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার যশোরের মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) ড. আতোয়ার রহমান এই রায় ঘোষণা করেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সদর উপজেলার শাখারীগাতি গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে ইমরান হোসেন এবং ইমরান হোসেনের স্ত্রী রেকশোনা বেগম। রায় ঘোষণার সময় আসাসিদের মধ্যে রেকশোনা বেগম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামি ইমরান হোসেন দেশে থাকাকালীন বানিয়ারগাতি গ্রামের নুর জালাল মোল্যার ছেলে জুবায়ের হোসেনকে প্রায়ই বলতেন, তিনি ওমানে যেতে পারলে তাকেও নিয়ে যাবেন। এরপর আসামি ইমরান হোসেন ওমানে চলে যান। পরে তিনি স্ত্রী রেকশোনা বেগমের মাধ্যমে জুবায়ের হোসেনকে ওমানে যাওয়ার জন্য প্রলুদ্ধ করেন। শর্ত থাকে, ওমানে যাওয়ার জন্য জুবায়ের হোসেনকে ৩ লাখ টাকা দিতে হবে।

তাদের প্রস্তাবে রাজী হয়ে জুবায়ের হোসেন পাসপোর্ট ও ভিসার জন্য প্রথমে রেকশোনা বেগমকে ৬৫ হাজার টাকা দেন। বাকী ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ওমানে যাওয়ার টিকিট ক্রয়ের সময় তাকে দিতে হবে বলে রেকশোনা বেগম জানান। ২০১৫ সালের ২৪ মার্চ বিকেলে জুবায়ের হোসেনের বাড়িতে গিয়ে ওমানে যাওয়ার সমস্ত ব্যবস্থা হয়েছে জানিয়ে এবং বিমানের টিকিট দেখিয়ে রেকশোনা বেগম বাকী ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা দাবি করেন।

তখন জুবায়ের হোসেন তাকে বাকী ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা দেন। টাকা নেওয়ার পর একই বছরের ২৬ মার্চ জুবায়ের হোসেনকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে তাকে ওমানে পাঠিয়ে দেন রেকশোনা বেগম। কিন্তু ওমানে যাওয়ার পর তাকে একটি ঘরে কয়েকদিন আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং তার মায়ের কাছে ফোন করে আরো ২ লাখ টাকা দাবি করেন রেকশোনা বেগমের স্বামী ইমরান হোসেন। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি জুবায়ের হোসেনের মা কোহিনুর এলাকার লোকজনকে জানান।

এ সময় এলাকাবাসী রেকশোনা বেগমকে চাপ সৃষ্টি করেন জুবায়ের হোসেনকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য। এরপর রেকশোনা বেগমকে মোবাইল ফোনে স্বামীর সাথে যোগাযোগ করে সবিস্তর জানালে একই বছরের ১৬ এপ্রিল মরণাপন্ন অবস্থায় জুবায়ের হোসেনকে ওমান থেকে দেশে পাঠিয়ে দেন ইমরান হোসেন। ২০ এপ্রিল সিঙ্গিয়া কলেজ মাঠে এক শালিসে ওই ঘটনার জন্য ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা জুবায়ের হোসেনকে দেওয়ার জন্য রেকশোনা বেগমকে বলা হয়। কিন্তু রেকশোনা বেগম শালিসের সিদ্ধান্ত অমান্য করায় একই বছরের ২৫ জুন আদালতে মানবপাচার ও প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন জুবায়ের হোসেন। পরে আদালতের আদেশে মামলাটি কোতয়ালি থানায় রেকর্ড করা হয়। একই বছরের ৩১ আগস্ট নরেন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্পের এসআই আব্দুর রহিম উল্লিখিত দম্পতিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

ওই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদেরকে উল্লিখিত সাজা প্রদান করেন আদালতের বিচারক।