যশোরে পুরনো চেহারায় নতুন পরিচয়ে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগীরা

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দীর্ঘ এক বছর পর যশোরের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ঘরানার যেসব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন পদ-পদবিতে আসীন ছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন, তারা ৫ আগস্টের পর অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিলেন।

তবে বুধবার ‘স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় সম্পদ রক্ষা আন্দোলন’ নামক একটি নতুন ব্যানারে তারা টাউন হল মাঠে প্রকাশ্যে এসেছেন। এই সমাবেশ এবং এর পরবর্তী মশাল মিছিলে এমন অনেককেই দেখা গেছে, যারা একসময় আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন, অথচ এখন বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখছেন।

এই নতুন সংগঠনটি চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধ করা, রাখাইনে মানবিক করিডোর প্রতিষ্ঠার চক্রান্ত বন্ধ করা, ঐতিহ্য বিনষ্ট, ভাস্কর্য ও বাউল আখড়ায় হামলা বন্ধ করা, শাহজাদপুরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছারি বাড়ি ও নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য ভাঙার সাথে জড়িতদের বিচার এবং মব সন্ত্রাস বন্ধের মতো দাবিগুলো উত্থাপন করেছে। যদিও এই দাবিগুলো জনগুরুত্বপূর্ণ, তবে সমাবেশের আয়োজক এবং অংশগ্রহণকারীদের তালিকা বিশে¬ষণ করলে ভিন্ন এক চিত্র উঠে আসে।

যশোরের বাম ঘরানার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে এই সমাবেশ হলেও, এতে ‘ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যক্রমের সাথে জড়িত’ অনেকেই অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। যারা পূর্বে আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী ছিলেন, তারা এখন পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার জন্য একটি নতুন প্লাটফর্মে জড়ো হয়েছেন।

আওয়ামী আমলে শিল্পকলা একাডেমির নেতৃত্বে থাকা অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাম নেতা শাহজাহান আলী, মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন দোদুল, সাংস্কৃতিক কর্মী বাসুদেব বিশ্বাস, জুলাই আন্দোলনের নেতা ইমরান খান প্রমুখ।

সভা পরিচালনা করেন উদীচী যশোরের সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু ও সাংবাদিক মিলন রহমান। সমাবেশের শুরুতে এক সময়ের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটভুক্ত উদীচী যশোর, সুরধুনী, পুনশ্চ যশোরের শিল্পীরা বাউল ও গণসংগীত পরিবেশন করেন। এরপর মব বন্ধসহ নানা দাবিতে শহরে মশাল মিছিল বের হয়।