শ্যামনগরে অচেতন করে দুই বাড়িতে চুরি

0

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা॥ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে রাতে দুই পরিবারকে অচেতন করে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ওই দুই পরিবার ও স্থানীয়দের ধারণা চেতনানাশক স্প্রে করে তাদের অচেতন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে শ্যামনগর পৌরসভার বাদঘাটা গ্রামের দেবীরঞ্জন মন্ডল ও চিত্তরঞ্জন মন্ডলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, রাতের খাবার শেষে দেবীরঞ্জন মন্ডলের পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় দেবীরঞ্জন মন্ডলের মেয়ে শিউলী মন্ডল (২৫) তার স্বামী পলাশ মজুমদারের (৩৫) সাথে ভিডিও কলে কথা বলছিলেন। হঠাৎ তিনি গোঙাতে শুরু করেন। বলেন তার মাথা ঘুরছে। এ সময় তার হাত থেকে মোবাইল ফোন পড়ে যায়। ফোনকলে থাকা অবস্থায় শিউলীর কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে পলাশ মজুমদার তাৎক্ষণিক তার শ্বশুর দেবীরঞ্জনকে ফোন করেন।

পলাশ মজুমদার বলেন, আমি শ্বশুর বাড়িতে এসে দেখি বাড়ির গেটে তালা দেওয়া। কিন্তু ঘরের দরজা ভাঙা। তার শ্বশুর দেবীরঞ্জন মন্ডল, শ্বাশুড়ি শিখা রানী, স্ত্রী শিউলী মন্ডল ও শালিকা সুমিত্রা রাণী অচেতন অবস্থায় রুমের মেঝেতে ও খাটের ওপরে পড়ে আছে। বাড়ির দোতলায় গিয়ে দেখা যায়, চোরেরা বাড়ির পেছনের গাছ বেয়ে উপরে ওঠে।

তিনি বলেন, বাড়ির সমস্ত চাবি দুই সেট। একটা আমার কাছে আরেকটা আমার স্ত্রী শিউলীর কাছে থাকে। তবে শিউলীর কাছে চাবি পাওয়া যায়নি। পরে পাশের চিত্তরঞ্জন কাকার বাসায় গিয়ে দেখা যায় তাদের মেঝেতে চাবিগুলো পড়ে আছে। আর সেখানে কাকা চিত্তরঞ্জন মন্ডল ও কাকী নিলীমা রাণীও মেঝেতে পড়ে আছেন। পরে তাদের একজন গ্রাম্য ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা করানো হয়। সকালে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন মোল্লা বলেন, ঘটনা শোনামাত্রই ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়। ইতোমধ্যে তারা তথ্য উদঘাটনের কাজ শুরু করছেন। এ বিষয়ে আইনানানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে বাড়ির সদস্যরা অসুস্থ থাকায় কী কী চুরি গেছে তা জানা যায়নি।