যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

রাজনৈতিক হামলাকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেয়ার অভিযোগে

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজনৈতিক হামলাকে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে যশোরের আদালতে মামলা হয়েছে। বুধবার যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন ও সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেছেন মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয়কৃষ্ণ মল্লিক।

সদর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারক মো. রহমত আলী অভিযোগটি তদন্ত করে আগামী ১৪ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য কোতয়ালি থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীর আইনজীবী সুদীপ্ত ঘোষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আরজিতে রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয়কৃষ্ণ মলি¬ক দাবি করেছেন, দীপঙ্কর দাস রতন ও তপন কুমার ঘোষ পূজা উদযাপন পরিষদের নাম ব্যবহার করে ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সার্বভৌমত্ব, সংহতি এবং শৃঙ্খলার প্রতি হুমকিস্বরূপ নানা কার্যকলাপ পরিচালনা করেছেন।

বিনয়কৃষ্ণ মল্লিক তার অভিযোগের সপক্ষে যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ কর্তৃক আওয়ামী ফ্যাসিবাদ পতনের পর প্রকাশিত একটি লিফলেটের কপি ও দৈনিক আমার দেশে গত ১৫ এপ্রিল প্রকাশিত একটি সংবাদের কাটিং মামলার আরজির সাথে সংযুক্ত করেছেন।

তিনি মামলায় আরো উল্লেখ করেন,‘সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে যশোর জেলার সনাতনী জনগোষ্ঠীর উপর সংঘটিত নির্যাতনের আংশিক বিবরণ’ শীর্ষক পূজা পরিষদের ওই লিফলেটে একটি তালিকা প্রকাশ করে বলা হয়, এটি সনাতন জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতনের তালিকা। সেখানে নির্যাতিত হিসেবে যাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তারা প্রায় সকলেই ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতাকর্মী ছিলেন। দীপঙ্কর দাস রতন এবং তপন কুমার ঘোষ পূজা উদযাপন পরিষদের নামে এই তালিকা প্রচার করেছেন।

কিন্তু এসকল ব্যক্তির অধিকাংশই কোনো সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার হননি। তারা বিগত সরকারের আমলে সাধারণ মানুষের ওপর যেভাবে অত্যাচার ও নির্যাতন চালিয়েছেন সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে আওয়ামী লীগ সরকারে পতনের পর। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মুসলিম ধর্মাবলম্বী আওয়ামী লীগ নেতারা হামলার শিকার হয়েছেন।

এসবই রাজনৈতিক কারণেই সংঘটিত হয়েছে। সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে কেউ নির্যাতিত হয়নি। কিন্তু দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে ঠেলে দিতে আসামিরা এসব তালিকা প্রচার করেছেন। তারা সমাবেশ ও মিছিল করে ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের অপতথ্য প্রচার করে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা চালান।