ঝিনাইদহের আলোচিত এমপি আনার হত্যার এক বছর পার

0

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)সংবাদদাতা॥ ঝিনাইদহ -৪ আসনের (কালীগঞ্জ ও সদরের একাংশ) সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার নিখোঁজ ও হত্যার ১ বছর পূর্ণ হয়েছে। এমপি আনার হত্যাকান্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৯ জন আটক হয়েছে। যার মধ্যে কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নেওয়া আমানুল্লাহ আমান ওরফে শিমুল ভূইয়া, তানভির ভূইয়া, শিলাস্তি রহমান ঢাকা থেকে আটক হন। পরে খাগড়াছড়ি থেকে ফয়সাল ও মুস্তফিজ, ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু, গ্যাস বাবু, কোলকাতা থেকে কসাই জিহাদ ও সিয়াম আটক হন। তবে এ হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী আখতারুজ্জামান শাহীন এখনো আটক হননি।

সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ১২ মে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারত গিয়ে কোলকাতার বন্ধু গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে ওঠেন আনোয়ারুল আজিম আনার। ১৩ মে সেখান থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার ছোট মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন ১৯ মে ঢাকার মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে যান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শেরেবাংলানগর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন এমপি কন্যা।

এরপর কোলকাতার নিউ টাউন এলাকার সঞ্জিভা গার্ডেনের বিউ ৫৬ ফ্ল্যাট থেকে ২২ মে দেহাংশের আলামত উদ্ধার করে কোলকাতা পুলিশ। সে সময় কোলকাতা সিআইডি প্রধান অখিলেশ চর্তুবেদী এমপি আনার হত্যার বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেন। পরে কসাই জিহাদকে নিয়ে বাগজোলা খাল থেকে হাড় ও ফ্ল্যাটের সেপটিক ট্যাংক থেকে ৪ কেজি মাংশের টুকরো উদ্ধার করা হয়। সে সময় এমপির হাত-পা বাঁধা ও মুখে কাপড় জড়ানো অবস্থায় চেয়ারে বসা একটি ছবি গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ।

এমপি আনারের হত্যা নিশ্চিত হতে ২০২৪ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে ডিএনএ নমুনা দেওয়ার জন্যে তার স্ত্রী ইয়াসমিন ফেরদৌস, ভাই এনামুল হক ও কন্যা মুমতারিন ফেরদৌস ডরিনকে কোলকাতায় ডাকা হয়। তবে তার মেয়েই কেবল কোলকাতা যান। ২০ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি নিশ্চিত করে উদ্ধার হওয়া মাংশের সাথে ডরিনের ডিএনএ মিলেছে। এমপি আনার হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। ডিএনএ নমুনার ব্যাপারটি কোলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাসও নিশ্চিত করে তখন।

এমপি আনার হত্যাকান্ডের ঘটনা নিশ্চিত হলেও গায়েবানা জানাজা বা ধর্মীয় কোন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেনি তার পরিবার ও দলের নেতাকর্মীরা। তবে ফেসবুকে শোক প্রকাশ করতে দেখা গেছে অনেক নেতাকর্মীকে।

এ প্রতিবেদন তৈরির সময় একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হননি।