ফুলে ফুলে সজ্জিত ‘রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস’ যশোরের পথে পথে বিক্ষোভ আর কালো পতাকা দেখলো

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বেনাপোল স্টেশন থেকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর পর পথে পথে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হলো ‘রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটিকে। মঙ্গলবার ‘রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি যাত্রী নিয়ে পদ্মাসেতু হয়ে বেনাপোল থেকে ঢাকার উদ্দ্যেশে ছেড়ে এসেই ঝিকরগাছায় প্রথম বিক্ষোভের মুখে পড়ে। এসময় যাত্রা বিরতির দাবিতে ঝিকরগাছা রেলস্টেশনে সর্বস্তরের জনগণ ট্রেনটিকে কিছু সময় আটকে দেয়।
এরপর যশোর রেলস্টেশনেও এসে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় বহুল প্রত্যাশিত রূপসী বাংলা এক্সপ্রেসটিকে। সেখানে যশোর রেল উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির ব্যানারে আগে থেকেই অবহেলিত, বঞ্চিত যশোরের শত শত মানুষ কালো পতাকা নিয়ে অবস্থান করছিলেন।

বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে ট্রেনটি যশোর জংশনে আসা মাত্রই ট্রেনটির বগিতে কালোপতাকা বেধে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানায় বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে সেখানে ৫ মিনিট যাত্রা বিরতির পর ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
বেনাপোল রেলস্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় বেনাপোল স্টেশন থেকে ট্রেনটি ছাড়ার কথা থাকলেও ৪ টা ৪০ মিনিটে উদ্বোধনের পর সেটি ৪ টা ৫০ মিনিটে যাত্রাপথের বিভিন্ন স্টেশনের লোকাল যাত্রীসহ ৯৮৭ জন যাত্রী নিয়ে বেনাপোল থেকে ছেড়ে যায়। ট্রেনটির আসন সংখ্যা ৭৬৮ টি হলেও ১২টি বগিতে ৯৮৭ জন যাত্রী এই ট্রেনটিতে প্রথম দিনে টিকিট গ্রহণ করে। এদের অনেক যাত্রীই বিভিন্ন স্টেশনে নেমে গন্তব্যে যান বলে তিনি জানান।


এদিন বিকেলে বেনাপোল স্টেশনে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আজহারুল ইসলাম। নির্দিষ্ট সময়ের ১ ঘন্টা ১০ মিনিট পর ফুল আর নানা রঙের ফিতায় আচ্ছাদিত হয়ে ট্রেনটি ৫ টা ৯ মিনিটে যশোর ঝিকরগাছা স্টেশনে এসে পৌঁছালে সেখানে বিক্ষুব্ধ জনতার বাঁধার কারণে ৫ মিনিট যাত্রাবিরতি করতে বাধ্য হয়। পরে সেখান থেকে ট্রেনটি যশোর জংশনে আসলে কালো পতাকা উঁচিয়ে শত শত নারী-পুরুষ প্রতিবাদ জানাতে থাকে। এক পর্যায়ে ট্রেনটির বগিতে কালো পতাকা বেধে প্রতিবাদ জানায় বিক্ষুব্ধ জনতা।

এর আগে বিকেল তিনটার পর থেকে স্টেশনের পূর্ব পাশে ওভার ব্রিজের নিচে অবস্থান নিয়ে পদ্মাসেতু রেল প্রকল্পে যশোর জংশনকে উপেক্ষা করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে বৃহত্তর যশোর রেল উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি। কমিটির আহবায়ক কাওসার আলীর সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমীন, যুগ্ম আহবায়ক জিল্লুর রহমান ভিটু, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম উদ-দ্দৌলাহ, দৈনিক লোকসমাজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনোয়ারুল কবীর নান্টু, প্রেসক্লাব যশোরের সাবেক সম্পাদক আহসান কবীর, শ্রমিক নেতা মাহবুবুর রহমান মজনু, অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা, আমিনুর রহমান হিরু, অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলুসহ আরও অনেকে।
এসময় বক্তারা বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন অগ্রগতির জন্য পদ্ধাসেতু রেল প্রকল্প চালু হলেও এর সুফল থেকে যশোরসহ পশ্চিমের জেলাগুলোকে উপেক্ষা করা হয়েছে। প্রাচীণতম যশোর জংশনকে পাশ কাটিয়ে যশোর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে পদ্ধবিলা স্টেশন ব্যবহার করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে এর সুফল যশোরবাসী পাবেনা। এজন্য দ্রুততম সময়ে যশোর-ঢাকা-পদ্মা সেতু লিংক প্রোজেক্টে বেনাপোল-যশোর-নড়াইল-ঢাকা রুটে ২টি ট্রেন চালুসহ দর্শনা-যশোর-নড়াইল-ঢাকা রুটে ২টি ট্রেন চালু, নিজ শহর থেকে প্রতিদিন ঢাকায় অফিস করার জন্য ট্রেনের সময়সূচি তৈরি করা, আন্তঃনগর ট্রেনে সুলভ বগি যুক্ত করা, ট্রেনের ভাড়া বাস ভাড়া থেকে কম রাখা, ট্রেনের টিকিটপ্রাপ্তির সহজ পদ্ধতি চালু করা এবং সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখার দাবি জানান তারা। সুনির্দিষ্টভাবে এ দাবিগুলো পূরণ না হলে যশোরবাসী বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে বলে বক্তারা জানান।
এদিকে একই দিনে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-খুলনা রুটে যাত্রা শুরু করে ‘জাহানাবাদ এক্সপ্রেস’। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় খুলনা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় ট্রেনটি। শিডিউল অনুযায়ী সকাল পৌনে ১০ টায় ট্রেনটি ঢাকা পৌঁছায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে। এই ট্রেনে আসন সংখ্যা ৭৬৮টি এবং বগি রয়েছে ১২টি। খুলনা থেকে এই ট্রেনের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন।
বেনাপোল সংবাদদাতা জানান, প্রথমবারের মতো পদ্মা সেতু হয়ে বেনাপোল-ঢাকা রুটে ‘রূপসী বাংলা’ এক্সপ্রেস নামে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনে আসন সংখ্যা ৭৬৮টি। এর মধ্যে আছে এসি কেবিন ৪৮টি, এসি চেয়ার ৩২০টি ও শোভন চেয়ার ৪০০টি। তবে উদ্বোধণী যাত্রায় লোকালযাত্রীসহ বেনাপোল থেকে ট্রেনে যশোরে আসেন ৯৮৭ জন। বেনাপোল রেলস্টেশন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীবাহী ট্রেনটি চলাচলের উদ্বোধন করেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম। এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক রফিকুল হাসাস, শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী নাজিব হাসান। বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ রাসেল মিয়া। বেনাপোল রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. সাইদুজ্জামান।
তরিকুল ইসলাম, ঝিকরগাছা (যশোর) সংবাদদাতা জানান, ঝিকরগাছাবাসীর দাবির মুখে ঢাকা-বেনাপোল রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস ঝিকরগাছা স্টেশনে যাত্রা বিরতি দিয়েছে। বিকেল ৫টা ৯মিনিটে ঝিকরগাছা রেলওয়ে স্টেশনে ৫মিটির যাত্রা বিরতি দেয়। এসময় মানববন্ধনে উপস্থিত হয়েক হাজার মানুষ উল্লাসে ফেটে পড়েন। এর আগে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ফ্রেন্ডস্ টুয়েন্টির উদ্যোগে ঝিকরগাছায় স্টোপেজের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে বিকাল ৩টা থেকে স্টেশনে যাত্রা বিরতির দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধনে হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। মানববন্ধনে যৌক্তিক দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন, ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির পক্ষে সভাপতি সাবিরা নাজমুল মুন্নি, সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাসান সামাদ নিপুন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসলাম উদ্দিন, সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম ও তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।

আলমগীর কবির, রূপদিয়া (যশোর) সংবাদদাতা জানান, যশোরের রূপদিয়া রেল স্টেশনে রূপসীবাংলা, বেতনা, সাগরদাড়ী, রকেট, কপোতক্ষ ও মংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বিরতির দাবিতে রূপদিয়া বাজার বণিক সমিতি ও এলাকাবাসি মানববন্ধন করেছে। গতকাল মঙ্গলবার স্টেশন চত্বরে শত শত মানুষ রেললাইনের দুই পাশে দাঁড়িয়ে মানববন্ধনে অংশ গ্রহন করে। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি মিকাইল হোসেন, নুর ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক গোলাম সরোয়ার, সাবেক ছাত্র নেতা হাচানুর রহমান সাকিল, লাইচ খান, ছাত্রদল নেতা ইমরান খান, জামায়াতে ইসলামী নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন শাখার আমীর হাফেজ আশরাফুল ইসলাম, সেক্রেটারি মহাসীন আলী প্রমুখ।