যশোরে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন শনিবার, প্রচারণায় জমজমাট আদালত প্রাঙ্গণ

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শেষ মুহূর্তে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা। আগামী ৩০ নভেম্বর শনিবার ভোট। সময় যত এগিয়ে আসছে ব্যস্তরা তত বেড়ইে চলেছে। ছুটে যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বাওে, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। যশোরের আদালত পাড়া এখন প্রার্থী-কর্মী সমর্থকদের প্রচারণায় মুখোরিত। বরাবরের মত এবারে সকলের আর্কষণের কেন্দ্রবিন্দু সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদ। শীর্ষ দুটি পদে কে কে আসছেন তা নিয়ে জল্পনা কল্পনার শেষ নেই। শীর্ষ দুটি পদে মোট ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এম এ গফুর খালেদ হাসান জিউস ও আ ক ম মনিরুল ইসলাম – লোকসমাজ

এবারের নির্বাচনে ১৩ টি পদের বিপরীতে ২৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শনিবার সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত সমিতির এক নম্বর ভবনে ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচনে ৫৩৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরমধ্যে সভাপতি পদে দুইজন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে চারজন। এছাড়া দুটি সহ-সভাপতি পদে চারজন, একটি যুগ্ম-সম্পাদক পদে দুইজন, দুটি সহকারী সম্পাদক পদে তিনজন, একটি গ্রন্থাগার সম্পাদক পদে তিনজন এবং পাঁচটি নির্বাহী সদস্য পদে নয়জন আছেন নির্বাচনী লড়াইয়ে। তবে নির্বাচনের শক্তির দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী পরিষদের প্রার্থীরা। মোট ১৩ টি পদের বিপরীতে ১২ টি পদে প্রার্থী দিয়েছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। সভাপতি পদে তারা কোন প্রার্থী দেয়নি। এ প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাধারণ সম্পাদক পদে এম এ গফুর, সহ-সভাপতি পদে আব্দুল লতিফ মোড়ল ও গোলাম মোস্তফা, যুগ্ম-সম্পাদক পদে নুর আলম পান্নু, সহকারী সম্পাদক পদে বোরহান সিদ্দিকী ও সেলিম রেজা, গ্রন্থাগার সম্পাদক পদে ইলিয়াস সাদত শাহাদৎ এবং নির্বাহী সদস্য মাধবেন্দ্র অধিকারী, এনামুল আহসান টিটুল, তরিকুল ইসলাম বাপ্পি, মুন্সী মনজুরুল মাহমুদ লিটু ও মৌলুদা পারভিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মত জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীদের একটি স্বতন্ত্র প্যালেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এ প্যানেলের সহ-সভাপতি পদে আলমগীর সিদ্দিকী, মনজুর কাদের আশিক, সাধারণ সম্পাদক পদে আ ক ম মনিরুল ইসলাম, যুগ্ম-সম্পাদক পদে ওয়াজিউর রহমান, সহকারী সম্পাদক পদে আশরাফুল আলম, গ্রন্থাগার সম্পাদক পদে রুহুল কুদ্দুস তপু, এস এম শাহরিয়ার হক এবং নির্বাহী সদস্য পদে শফিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম তাসনিম, দৌলাতুন নেছা ও রওশনারা খাতুন রুমা নির্বাচন করছেন। তবে এ প্যানেলের প্রার্থীরা নিজেদের স্বতন্ত্রপ্রার্থী বলে বেশি প্রচার দিচ্ছে।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ এবারের নির্বাচনে কোন প্রার্থী দেয়নি। তবে একজন সভাপতি ও একজন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীকে তারা দলীয়প্রার্থী বলে প্রচার করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামীপন্থী অনেক আইনজীবী জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে তাদের কোন প্রার্থী নেই। যাদের নাম প্রচার হচ্ছে তারা কেউ দলের সিদ্ধান্তে নির্বাচন করছেন না, এটা তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ থেকে সভাপতি পদে খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন মুকুল এবং সাধারণ সম্পাদক পদে খালেদ হাসান জিউস ও হাদিউজ্জামান সোহাগ ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে নিজেদের আওয়ামী আইনজীবী পরিষদেও প্রার্থী হিসেবে দাবি করছেন।
সভাপতি পদে খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন মুকুলের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান সভাপতি আবু মোত্তর্জা।


জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী এম এ গফুর বলেন, ‘আমি যশোর বারে সাতবার সাধারণ সম্পাদক এবং একবার যুগ্ম-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। প্রতিবারই আইনজীবীরা আমাকে সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত করে বারের উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। আমি নির্বাচিত হয়ে বার এবং আইনজীবী কল্যাণে কাজ করেছি। আমি শতভাগ আশাবাদী বিগত দিনের মত এবারের নির্বাচনেও তারা আমাকে সর্বোচ্চ ভোটে বিজয়ী করবেন।’
একই পদে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ থেকে প্রার্থী দাবি করা খালেদ হাসান জিউস ও হাদিউজ্জামান সোহাগও জয়ের ব্যাপাওে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।