সাতক্ষীরা টিটিসির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

0

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা ॥ সাতক্ষীরা কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কে এম মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি নিয়োগ বাণিজ্য, ঘুষ গ্রহণ, পিডিও (প্রি-ডিপার্চার ওরিয়েন্টশন) ভর্তির টাকাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাত করেছেন। তার এসব দুর্নীতির কাজে সহায়তা করেছেন টিটিসির সাবেক জেপিও (জব প্রেসমেন্ট অফিসার) ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আরিফুল ইসলাম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৩ জুলাই সাতক্ষীরা কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে কে এম মিজানুর রহমান যোগদান করেন। যোগদানের পর একাডেমিক ভবন, ডরমেটরি ভবন, টয়লেট সংস্কার ও রং করা বাবদ প্রায় ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। কিন্তু মাত্র ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ করে তিনি এসব কাজ সম্পন্ন করেন। নিজের ক্ষমতাবলে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে বরাদ্দকৃত সরকারি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া টিটিসির সব ধরনের টেন্ডার ও ক্রয় থেকে ৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে ৪র্থ শ্রেণির জনবলকে স্থায়ী চাকরির লোভ দেখিয়ে কোনো বিজ্ঞপ্তি ছাড়া প্রায় ১৫ লাখ টাকা নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন। তার এ কাজে সহায়তা করেছেন সাবেক জেপিও আরিফুল ইসলাম। ভুক্তভোগী ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী মিঠুন মন্ডল,মনোতোষ ঢালী,হাবিবুর রহমান,সুমন কুমার মন্ডল,রিমিতা রাণী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে আরিফুল ইসলাম টাকার নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পিডিও ভর্তি বাবদ ২০০ টাকার মধ্যে প্রশিক্ষক সম্মানী/ উন্নয়ন বাবদ ৭০ টাকা কেটে নিয়ে নিজের মত আরিফুল ইসলামকে (সাবেক জেপিও) দিয়ে বিগত ৪ বছরে ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে প্রায় ১৭ লাখ টাকা আত্মসাথ করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কে এম মিজানুর রহমান।
এ ব্যাপারে টিটিসির সাবেক জব প্রেসমেন্ট অফিসার ছাত্রলীগ নেতা আরিফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে আমার চাকরি নেই। জনবল কম থাকায় অধ্যক্ষ স্যার আমাকে বিভিন্ন সেক্টরে কাজে লাগান। এমনকি মালামাল ক্রয়সহ একাধিক কমিটিতে অধ্যক্ষ স্যার আমার নাম দিয়েছেন। আমি দুই একজনের সুপারিশ করে চাকরি দিয়েছি, তবে কোনো অর্থ নেইনি।
এ সব বিষয়ে সাতক্ষীরা কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কে এম মিজানুর রহমান বলেন, আমি এসব বিষয়ে কিছুই বলতে পারবো না। পারলে আপনি আমাদের হেড অফিস থেকে জেনে নেন।
উল্লেখ্য, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কে এম মিজানুর রহমান তার আগের পকর্মস্থল চুয়াডাঙ্গা টিটিসিতেও এই ধরনের অনিয়ম দুনীতি ও অর্থ আত্মসাতের সাথে জড়িত ছিলেন। প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় ও বিএমইট কর্তৃক তদন্তে প্রমাণিত হয়ে তাকে জরিমানা করা হয়। যা চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।