বাজারে উঠেছে মুড়িকাটা পিঁয়াজ কমেছে সবজি ডিম ও মুরগির দাম

0

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন বাজারে এসেছে নতুন মুড়িকাটা পিঁয়াজ। থেমে গেছে দেশি পুরনো পিঁয়াজের দাম বাড়ার প্রবণতা। সবজির আমদানি বেড়েও এ সপ্তাহে বেশ কিছুটা দাম কমেছে। কমেছে খামারের ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম। তবে ইলিশ মাছের দাম বাড়তি রয়ে গেছে। রোববার যশোর শহরের বড় বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

গত এক সপ্তাহ ধরে বড় বাজারে নতুন মুড়িকাটা পিঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। একটু একটু করে সরবরাহও বাড়ছে। রোববার এইচ এম এম রোডের কালীবাড়ি মার্কেটের খুচরা বিক্রেতা বিকাশ শিকদার জানান, তিনি রোববার মুড়িকাটা পিঁয়াজ প্রতি কেজি মানভেদে ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। দেশি পুরনো পিঁয়াজ বিক্রি করেছেন ১০০ টাকা দরে আর রসুন বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা।

গত সপ্তাহেও দেশি পুরনো পিঁয়াজ বাজারে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হয়েছিল ১১০ টাকা থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত। পিঁয়াজের ঘাটতির কারণে মজুতদাররা দেশি পুরনো পিঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। মুড়িকাটা পিঁয়াজ ওঠার পর সেই অবস্থা আর এখন নেই।

কালীবাড়ি মার্কেটের ‘জম জম ভাণ্ডার-এর স্বত্বাধিকারী কামাল মিয়া জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বড় বাজারে মুড়িকাটা পিঁয়াজের সরবরাহ বেড়ে যাবে, দামও কমে আসবে। তিনি এদিন মুড়িকাটা পিঁয়াজ পাইকারি প্রতি কেজি মানভেদে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা , দেশি পুরনো পিঁয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকা ও রসুন ৪০ থেকে ৬০ দরে বিক্রি করেছেন।

এদিকে সরবরাহ বেড়ে বাজারে শীতকালীন সবজির দাম বেশ কিছুটা কমেছে। রোববার এইচ এম এম রোডের খুচরা বিক্রেতা মো. রিপন জানান, টমেটো প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ১২০ টাকা। কাঁটা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ১০০ টাকা। ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৭০ টাকা। শসা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৮০ টাকা। পটল বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৬০ টাকা। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ১০০ টাকা।

বড় বাজারের ‘মনিরামপুর ভাণ্ডার’-এর অন্যতম স্বত্বাধিকারী মো. আলাউদ্দিন জানান, শীতকালীন সবজি প্রায় উঠে গেছে, আগামী সপ্তাহে আরও সরবরাহ বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে দামও কমে আসবে।

অপরদিকে সারা বছরে ইলিশের দাম ক্রেতাদের নাগালে কোনরকম আসেনি। শীতকালে চাহিদা কম, তারপরও বাজারে ইলিশের দাম কমেনি। বিক্রেতা এরশাদ আলী জানান, রোববার এক কেজি থেকে এক কেজি ৬শ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৩৫শ টাকা, এক কেজি ইলিশ ৩ হাজার টাকা, ৪শ/৫শ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ১৬শ টাকা, ৩টায় কেজি ইলিশ ১ হাজার টাকা ও ৪টায় কেজি ইলিশ ৮শ টাকা।

বিক্রেতা এরশাদ আলী আরও জানান, বাজারে ইলিশ মাছের সরবরাহ কম, বিক্রিও কম। তিনি সামনে আর দাম কমার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না বলে জানান।

চাহিদা কমায় এ সপ্তাহে খামারের ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে আরও ১০ টাকা কমেছে। ডিমের দামও হালিতে ২ টাকা কমেছে।

বড় বাজারের মুরগি বিক্রেতা আরিফুল ইসলাম মিলন জানান, রোববার ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৫০ টাকা, লেয়ার ৩২০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তিনি আরও জানান, বাজারে মুরগির ক্রেতা অনেক কমে গেছে।

ডিম বিক্রেতা শেখ আব্দুল কুদ্দুস জানান, রোববার বাদামি রঙের ডিম প্রতি হালি ৪০ টাকা ও সাদা ডিম প্রতি হালি ৩৮ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।