বেনাপোলে কলেজছাত্র রেজোয়ানকে গুমের অভিযোগ আট বছর পর তৎকালীন ওসি অপূর্ব হাসানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ডিগ্রি কলেজছাত্র মোহাম্মদ জুবায়ের ওরফে রেজোয়ানকে আট বছর আগে তুলে এনে গুম করা হয়। এই অভিযোগ এনে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের তৎকালীন ওসি অপূর্ব হাসানসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বুধবার আমলী আদালতে মামলা হয়েছে। গুমের শিকার রেজোয়ানের ভাই বেনাপোল পোর্ট থানার মহিষাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা রিপন হোসেন মামলা করেছেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সুলতানা অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য বেনাপোল পোর্ট থানার ওসিকে আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী আলমগীর সিদ্দিক।
মামলার অপর আসামিরা হলেন, বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের তৎকালীন এসআই নুর আলম ও ইনসপেক্টর (তদন্ত) খন্দকার শামীম আহম্মদ।
রিপন হোসেন মামলায় উল্লেখ করেছেন, তার ভাই রেজোয়ান বাগআঁচড়া ডিগ্রি কলেজে অনার্স (ইতিহাস) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে রেজোয়ান বেনাপোল পোর্ট থানা ভূমি অফিস এলাকার জনৈক রেজাউল ইসলামের দোকানের পাশে দাঁড়িয়ে চা পান করছিলেন। এ সময় বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই নুর আলমসহ দ্ইু জন সিভিল পোশাকে কালো রঙের একটি মোটরসাইকেলে (ঢাকা মেট্রো-ল-১৯-১৬৯৫) সেখানে যান। তারা রেজোয়ানকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে সেখান থেকে চলে যান। রেজোয়ানকে মোটরসাইকেলে দুই জনের মাঝখানে বসানো হয়েছিলো। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে এ খবর পেয়ে রেজোয়ানের ভাই রিপন হোসেন এবং বড় ভাই বায়েজিদ বেনাপোল পোর্ট থানায় যান। তারা এ সময় ওসি অপূর্ব হাসানের কাছে রেজোয়ানের সন্ধান জানতে চান। তখন ওসি অপূর্ব হাসান ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে বেশি বাড়াবাড়ি করলে পরিবারের সকলকে গুম করার হুমকি দেন। এরপর খোঁজাখুঁজি করে রেজোয়ানের কোনো সন্ধান না পেয়ে ওই বছরের ৭ আগস্ট বেনাপোল পোর্ট থানায় জিডি করতে যান রিপন হোসেন। এ সময় ইনসপেক্টর (তদন্ত) খন্দকার শামীম আহম্মদ জিডি লেখা হয়নি ইত্যাদি বলে এবং প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দিতে নিজেরাই মিথ্যা বয়ানে একটি জিডি লিখে রিপন হোসেনের বড় ভাই বায়েজিদের সই নকল করে সেটি থানায় এন্ট্রি করেন। কিন্তু ওই ঘটনার পর থেকে আজ পর্যন্ত রেজোয়ানের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, উল্লিখিত আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে রেজোয়ানকে অপহরণ এবং হত্যা করে লাশ গুম করে রেখেছেন। ওই সময় তৎকালীন ওসি অপূর্ব হাসান পরিবারের সকলকে গুম করার হুমকি দেওয়ায় জীবনের ভয়ে রিপন হোসেন মামলা করতে সাহস পাননি। তবে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকার পরিবর্তন এবং সেনাবাহিনীর তৎপরতার কারণে কিছুটা নিরাপত্তা বোধ করায় রিপন হোসেন আদালতে এই মামলা করেছেন।