বাঘারপাড়ায় বিএনপি নেতাকর্মীদের অকারণে আটক,সর্বত্র পুলিশ আতঙ্ক

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের বাঘারপাড়া বিএনপি ও তার সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে হঠাৎ গ্রেফতার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিনে উপজেলা বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতারের কারণে তাদের মাঝে দেখা দিয়েছে এই আতঙ্ক।
দলটির জেলা ও উপজেলা শাখার নেতারা দাবি করেছেন, কোনো কারণ ছাড়াই গত দেড় সপ্তাহের ব্যবধানে উপজেলার ২০ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। তবে এ সংখ্যা আরও বেশি বলে দলের একাধিক নেতার দাবি। এ বিষয়ে পুলিশ দাবি, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এসব নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হচ্ছে।
বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, বিএনপি আহুত এক দফা আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকেই বাঘারপাড়া উপজেলা জুড়ে দলটির নেতাকর্মীদের ধরপাকড় শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আন্দোলনের মাঠে যেসব নেতাকর্মী সবসময় সক্রিয় তাদেরকে টার্গেট করে পুলিশ গ্রেফতার অভিযান শুরু করেছে। কোনো কারণ ছাড়াই এক/দুজন নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ অতীতের ন্যায় মামলা সাজিয়ে তাদেরকে আদালতে চালান দিচ্ছে।
আটক নেতারা হলেন-উপজেলার দোহাকুলা ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মশিয়ার রহমান, যুগ্ম আহবায়ক আলমগীর হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু ইসা, যুবদল নেতা সেলিম রেজা, বন্দবিলা ইউনিয়ন যুবদল নেতা আলমগীর হোসেন, গোলাম রসুল, রায়পুর ইউনিয়ন যুবদল নেতা ফারুক হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন, আবু জাফর, লিমন হোসেন, নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের যুবদল নেতা রফিকুল ইসলাম, হাদিউজ্জামান, দরাজহাট ইউনিয়নের বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা ফুল মিয়া, যুবদল নেতা মো. মোমিন, আবু তাহের, আব্দুল আলীম ও এনামুল হক। এদেরকে স্ব স্ব এলাকা থেকে আটক করে বাঘারপাড়া থানার পুলিশ। পরে পুলিশের দায়ের করা কথিত নাশকতা মামলায় আটক দেখিয়ে তাদের চালান দেয়া হয় আদালতে।
বাঘারপাড়া থানা বিএনপির আহবায়ক শামসুর রহমান বলেন, পুলিশ কোনো কারণ ছাড়াই অতীতের ন্যায় গ্রেফতার করে গায়েবি মামলায় আটক দেখাচ্ছে। হাট-বাজারে যেখানে সেখানে যাকে পাচ্ছে তাদেরকে আটক করা হচ্ছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মানুষ যখন রাজপথে নামতে শুরু করেছে ঠিক তখনি বাঘারপাড়া থানা পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার করে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
তবে এ বিষয়ে বাঘারপাড়া থানা পুলিশের ওসি শাহাদৎ হোসেন বলেন, কাউকে অহেতুক হয়রানি করা হচ্ছে না। সুনির্দিষ্ট মামলা ও অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে যশোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, শুধু বাঘারপাড়া নয়, গোটা যশোরে পুলিশ গণগ্রেফতার শুরু করেছে। ইতিমধ্যে যশোরের ৮ উপজেলা এলাকায় ১০টি সাজানো মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। একশ্রেণির অতি উৎসাহী পুলিশ এসব গ্রেফতার অভিযানে নেমেছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, বিএনপির একদফা আন্দোলন যখন চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগুচ্ছে ঠিক তখনি পুলিশ কোনো কারণ ছাড়াই এই নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে নেতাকর্মীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।