বাগেরহাটে বেড়েই চলেছে ডেঙ্গু রোগী নোংরা পরিবেশে চিকিৎসক সেবা

0

বাগেরহাট সংবাদদাতা ॥ বাগেরহাটে বেড়েই চলেছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘন্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩১ জন ডেঙ্গু রোগী। সরকারি হিসেবে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় আক্রন্তের সংখ্যা ৯‘শ ছাড়িয়েছে। রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় সঠিক সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাটের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ৬৮৩ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে সব থেকে বেশি ৩০২ জন। এছাড়া ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০৫ জন, রামপালে ৭৩, কচুয়ায় ৬৪, শরণখোলায় ৫৯, চিতলমারীতে ৩৩, মোল্লাহাটে ১৮, মোংলায় ২১ এবং মোরেলগঞ্জে উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পেলেক্সে ৮জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া জেলা হাসপাতাল থেকে ২৬ জন এবং শরণখোলা থেকে ২ জন ডেঙ্গু রোগীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ৪২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। গেল তিন চারদিন ধরে এই হাসপাতালে ৪০-৪২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছে। যা গেল সপ্তাহে ছিল ২০-২৫ জন। এছাড়া এই হাসপাতালে এখন পর্যন্ত দুই সহস্রাধিক রোগীর ডেঙ্গু পরীক্ষা হয়েছে। যার মধ্যে ৫ শতাধিক রোগীর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। সেই হিসেবে পরীক্ষার প্রায় ২৫ শতাংশ রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিলেন।
অন্যদিকে জেলার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টারেও বেশকিছু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের পরীক্ষায়ও বেশ কিছু রোগীর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।
হাসপাতালের বহুতল ভবনের তৃতীয়তলার মেঝেতে চিকিৎসা নেওয়া মো. ইকবাল বলেন, ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু দুর্গন্ধে থাকতে না পেরে মেঝেতে এসে রয়েছি। ওখানে থাকলে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে যাবো। একই স্থানে চিকিৎসা নেওয়া ডেঙ্গু রোগী হাফিজুর রহমানের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, পাঁচদিন ধরে হাসপাতালে আছি। স্যালাইনসহ কিছু ওষুধ হাসপাতাল থেকে দিয়েছে। কিন্তু বমির ইনজেকশন, প্রোল্যাকটো ও ইলেক্ট্রো নামের দুটো ওষুধ নিয়মিত কিনতে হচ্ছে। এগুলো পেলে আমাদের খুব ভাল হতো। ডেঙ্গু ওয়ার্ডে চিকিৎসা নেওয়া আলোকদিয়া এলাকার নজরুল ইসলাম নামের এক রোগী বলেন, হাসপাতাল এতো অপরিস্কার তা বোঝানো যাবে না। শৌচাগারে আলো নেই, ট্যাপ নেই, দরজার সামনে ময়লা। বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, ‘হাসপাতালে দুই হাজারের অধিক রোগীর ডেঙ্গু পরীক্ষা করেছি আমরা। এর মধ্যে পাঁচ শতাদিক রোগীর ডেঙ্গু পজেটিভ পেয়েছে। ৩০২ জন রোগীকে আমরা চিকিৎসা দিয়েছি। ২৬ জনকে উন্নত চিকিৎসার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছি। বর্তমানে ৪২ জন রোগী ভর্তি আছে। যা গেল সপ্তাহে ছিল মাত্র ২০ থেকে ২৫ জন।’ তিনি বলেন, ‘শুধু ডেঙ্গু নয়, হাসপাতালে সবধরণের রোগী বৃদ্ধি পেয়েছে। ওষুধের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও জনবল সঙ্কটের কারণে রোগীদের সেবা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। যার কারণে মানুষের কাঙ্খিত সেবা প্রদানে কিছুটা ব্যত্যয় ঘটছে। এরপরেও আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
এদিকে বাগেরহাট পৌরসভার পক্ষ থেকে মশা নিধনে ফগার মেশিন দিয়ে কয়েকবার স্প্রে ও মাইকিং করা হলেও অন্যান্য পৌরসভা ও উপজেলায় কোন কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়নি।
বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র খান হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মশা নিধনে আমরা ফগার মেশিন দিয়ে স্প্রে করেছি। মাইকিং করা হয়েছে। এছাড়া সকলকে তার বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থান পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে।’